
সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক
দিন দিন বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়। অনেকের ধারণা, শুধু অ্যালকোহল পানকারীদেরই ফ্যাটি লিভার হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, অ্যালকোহল পান না করলেও বিভিন্ন কারণে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন একজন ব্যক্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও বিভিন্ন ধরনের বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন।
অতিরিক্ত চিনি গ্রহণও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি প্রবেশ করলে লিভার সবটুকু সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। অতিরিক্ত চিনি তখন চর্বিতে রূপান্তরিত হয়ে লিভারের কোষে জমতে শুরু করে। দীর্ঘদিন এভাবে চর্বি জমতে থাকলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ফ্যাটি লিভার সাধারণত দুই ধরনের। অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের কারণে যে সমস্যা হয় তাকে অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বলা হয়। অন্যদিকে অ্যালকোহল পান ছাড়াও স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও বিপাকীয় নানা সমস্যার কারণে যে ফ্যাটি লিভার হয়, তা নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ নামে পরিচিত।
তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেমন-
পেটের ডান পাশের ওপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি
অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা
ক্ষুধামন্দা
হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন
ত্বকে চুলকানি
মলের রঙে পরিবর্তন
চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে সচেতন হলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সূত্র: এশিয়াননেট