
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের সদস্যদের ভোগদখলে বাধা, হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার পয়সা গ্রামের বাসিন্দা মো. ঠান্ডা খন্দকার (৫৫) আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঠান্ডা খন্দকারের মেঝভাই জাফর আলী খন্দকার ১৯৯৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মৃত আহাম্মদ সিকদারের কাছ থেকে ৪৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই সময়ের বিক্রয় দলিল ও ওয়ারিশ সনদে ‘ছোটবিবি’র কোনো সন্তানাদি নেই বলে উল্লেখ ছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘদিন পর আব্দুল জলিল সিকদার নিজেকে ‘ছোটবিবি’র সন্তান দাবি করে বাকাল ইউনিয়ন পরিষদে ওয়ারিশ সনদের জন্য আবেদন করেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে ‘ছোটবিবি’র ওয়ারিশ হিসেবে উল্লেখ করে সনদ দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ স্মারক নং-বাঃইউঃপিঃ১২৯/২০১৪, তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মাধ্যমে ওই ওয়ারিশ সনদ বাতিল করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওয়ারিশ সনদ বাতিল হওয়ার পরও আব্দুল জলিল সিকদার ও মো. শাহজালাল সিকদার পরস্পর যোগসাজশে জাফর আলী খন্দকারের ক্রয়কৃত ও তাদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। জমিতে ভোগদখলে যেতে চাইলেই নানা ধরনের বাধা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঠান্ডা খন্দকার।
তিনি অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবার চাপ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
ঠান্ডা খন্দকার জানান, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে তারা একাধিকবার উভয় পক্ষকে ডেকে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। অভিযোগকারীর ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষকে সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি তার।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতেই তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের খুন-জখম এবং জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তার আশঙ্কা, যেকোনো সময় প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করতে পারে। এতে বড় ধরনের সংঘাত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ঠান্ডা খন্দকার বলেন, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
তিনি অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল জলিল সিকদার ও মো. শাহজালাল সিকদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।