বাউফলে মাটির বদলে বালু দিয়ে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

হোম » লিড নিউজ » বাউফলে মাটির বদলে বালু দিয়ে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ
বুধবার ● ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

বাউফলে মাটির বদলে বালু দিয়ে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী

 

পটুয়াখালীর বাউফলে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় মাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও বালু ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। এ কাজে অনিয়ম করে বরাদ্দের বড় অংশের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের পোনাপুরা জয়নাল মৃধা বাড়ি থেকে কাসেম আলী হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে এ অভিযোগ ওঠে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোসা. মিতু বেগম কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য।

 

স্থানীয় বাসিন্দা, কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পোনাপুরা কাসেম আলী হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদে যাওয়ার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। এতে মসজিদের মুসল্লিসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। পরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় সড়কটি নির্মাণে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

 

প্রকল্পের দায়িত্ব পান কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসা. মিতু বেগম। প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, ১০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক শ্রমিকের মাধ্যমে মাটি দিয়ে নির্মাণের কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প সভাপতি মিতু বেগম ও তাঁর স্বামী মো. হানিফ সাজ্জাল মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করেছেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি নির্ধারিত প্রস্থে নির্মাণ করা হয়নি। কোথাও ৫ ফুট, আবার কোথাও ৬ ফুট প্রস্থে কাজ করা হয়েছে। ১০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার কাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহার করায় সড়কের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে ধস দেখা দিয়েছে। ফলে সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এটি একটি মসজিদের রাস্তা। বছরের পর বছর দুর্ভোগের পর সড়কটির উন্নয়নে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মিতু বেগম ও তাঁর স্বামী নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেননি। মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’

 

কাসেম আলী হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার বলেন, ‘মুসল্লিরা মসজিদে আসতে পারেন না। বর্ষাকালে কোমরসমান কাদায় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। দুর্ভোগ লাঘবে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ঠিকমতো কাজ করা হয়নি। নীতিমালা অনুসরণ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এখন মসজিদের তহবিলে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা টাকা চাই না, সড়কের কাজ সঠিকভাবে করা হোক।’

 

অভিযোগের বিষয়ে কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোসা. মিতু বেগম বলেন, ‘কোথাও মাটি না পাওয়ায় বালু দিয়ে কাজ করেছি। বালু ঠিকমতো দেওয়া হয়েছে, তবে দুই পাশের নিচু জায়গায় বালু চলে গেছে।’ তবে তিনি কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ যেটুকু হয়েছে ভালো হয়েছে। কিছু টাকা মসজিদে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

 

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখব। অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫২:১৯ ● ৩৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ