প্রতিদিন প্যাকেটজাত খাবার খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে?

হোম » লাইফস্টাইল » প্রতিদিন প্যাকেটজাত খাবার খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে?
শনিবার ● ২৯ আগস্ট ২০২৬


প্রতিদিন প্যাকেটজাত খাবার খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে?

সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক

 

ব্যস্ত জীবনে সহজলভ্য প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে উঠেছে। সময় বাঁচাতে এসব খাবার সুবিধাজনক হলেও নিয়মিত অতিরিক্ত গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ, বিশেষ করে কিডনির স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা নিয়মিত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খান, তাদের উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এসব সমস্যাই পরবর্তী সময়ে কিডনির জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। প্যাকেটজাত খাবারে থাকা অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমিয়ে রাখতে পারে এবং রক্তচাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

 

আমেরিকান জার্নাল অব কিডনি ডিজিজেসে প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি বৃহৎ গবেষণায় কিডনি রোগে আক্রান্ত নন এমন ১৪ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ককে গড়ে ২৪ বছর পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণা চলাকালে প্রায় ৫ হাজার অংশগ্রহণকারী দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। গবেষণাটিতে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি গ্রহণের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া যায়।

 

লবণের পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবারে থাকা ফসফেট অ্যাডিটিভও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এসব উপাদান শরীরে তুলনামূলক সহজে শোষিত হয়। বিশেষ করে আগে থেকেই কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফসফরাস গ্রহণ জটিলতা বাড়াতে পারে।

 

কিডনি পর্যাপ্তভাবে অতিরিক্ত ফসফরাস শরীর থেকে বের করে দিতে না পারলে রক্তে ফসফেটের মাত্রা বেড়ে হাইপারফসফেটেমিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগী ও হাইপারক্যালেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাদ্যে পটাশিয়ামের পরিমাণও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

রেনাল ফেইলিওর জার্নালে প্রকাশিত ২০২৪ সালের একটি পর্যালোচনায় একাধিক দীর্ঘমেয়াদি কোহর্ট গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যারা সবচেয়ে বেশি অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করেন, তাদের দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের আপেক্ষিক ঝুঁকি সর্বনিম্ন মাত্রায় এসব খাবার গ্রহণকারীদের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।

 

প্যাকেটজাত খাবার কি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাকেটজাত খাবার সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা সব সময় জরুরি নয়। তবে এসব খাবারকে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের প্রধান অংশ বানানো উচিত নয়।

 

খাবার কেনার আগে প্যাকেটের লেবেল পড়ে লবণ, চিনি ও অন্যান্য উপাদানের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি। যতটা সম্ভব অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে টাটকা শাকসবজি, ফল, মাছ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবার খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ সময়: ৮:১৮:০০ ● ২২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ