
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জেলা বিএনপি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত ফোনালাপের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত নোটিশে আপেল মাহমুদ ফিরোজকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জেলা বিএনপির প্যাডে দেওয়া নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি আপেল মাহমুদ ফিরোজের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ফোনালাপে দেওয়া বক্তব্য দলীয় শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শ এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পরিপন্থী বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, কথিত ওই ফোনালাপের পরিপ্রেক্ষিতে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে দিতে হবে। নোটিশের অনুলিপি বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
তবে আপেল মাহমুদ ফিরোজ দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভয়েস রেকর্ডটি প্রচার হয়েছে, সেটি এআই দিয়ে তৈরি। সেখানে কার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তারও কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় নেই। ওই কণ্ঠ আমার নয়। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এটি একটি ষড়যন্ত্র।’
জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপেল মাহমুদ ফিরোজের লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত ভয়েস রেকর্ডে দাবি করা হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারকে পরাজিত করার বিষয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ ফোনে কথা বলেছেন। তবে ওই রেকর্ডে অপর ব্যক্তির পরিচয় স্পষ্ট নয়।
এ ছাড়া প্রচারিত অডিওর কণ্ঠটি আপেল মাহমুদ ফিরোজের কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আপেল মাহমুদ ফিরোজও অডিওটিকে নিজের বলে স্বীকার করেননি। ফলে কথিত ফোনালাপের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।