দাওয়াত দিয়ে যুবককে মারধর, চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

হোম » ভোলা » দাওয়াত দিয়ে যুবককে মারধর, চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
বুধবার ● ১৯ আগস্ট ২০২৬


 

দাওয়াত দিয়ে যুবককে মারধর, চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বোরহানউদ্দিন (ভোলা)

 

ভোলার বোরহানউদ্দিনে আল মামুন মিঠু নামে এক যুবককে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর, দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে দুই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহদী হাসান পলিন ও সহদপ্তর সম্পাদক মো. ইমন হাওলাদারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে উপজেলা ছাত্রদল।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি দানিশ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক তানজিল হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলন ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা ছাত্রদলের জরুরি সভায় তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট রাত ৮টার দিকে অভিযুক্তরা তাদের এক নিকটাত্মীয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়ার কথা বলে মিঠুকে স্থানীয় মনিরাম বাজারে আসতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার ওপর হামলা চালিয়ে কোমরের বেল্ট দিয়ে মারধর এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মিঠুর সামনে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য রেখে ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। প্রাণনাশ ও সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কায় তিনি অভিযুক্তদের কথামতো টাকা দিতে বাধ্য হন বলে মামলায় উল্লেখ করেন।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, মিঠুর কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা এবং তার এক বন্ধুর ব্যাংক হিসাব থেকে আরও ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

 

মিঠুর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাকে সমকামিতার সঙ্গে যুক্ত বলে একটি ভিডিও ধারণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে বা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে সামাজিকভাবে হেয় করার পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় হয়রানির হুমকি দেন। পরে তাদের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

 

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বোরহানউদ্দিন থানায় দুই ছাত্রদল নেতার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন মিঠু। এ বিষয়ে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

বোরহানউদ্দিন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সাহা বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৬:৫৭ ● ২০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ