
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনার পাথরঘাটায় এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি অভিযোগটি আমলে নিয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার রুজুর নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিরা হলেন পাথরঘাটা উপজেলার ছোট পাথরঘাটা গ্রামের মোস্তফার ছেলে মো. আবু বক্কর (৩০) ও তাঁর সহযোগী আবদুল হালিম প্যাদার ছেলে মো. আল মামুন (২৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূর স্বামী ঢাকায় ব্যবসা করেন। তিনি শিশু সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। প্রতিবেশী আবু বক্কর বিভিন্ন সময় তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। বিষয়টি আবু বক্করের স্বজনদের জানিয়ে দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আবু বক্কর তাঁর সহযোগী আল মামুনকে নিয়ে ওই গৃহবধূর বাড়িতে যান। একপর্যায়ে কৌশলে ঘরে ঢুকে পড়েন আবু বক্কর। গৃহবধূ বিষয়টি টের পেয়ে আলো জ্বালিয়ে তাঁকে দেখতে পান। চিৎকার করলে আবু বক্কর চাকু বের করে হত্যার হুমকি দেন। পরে জোরপূর্বক তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় আল মামুন জানালার বাইরে থেকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গৃহবধূর অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে আবু বক্কর বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
পরে বিষয়টি স্বামীকে জানালে তাঁর অনুমতি নিয়ে আদালতে মামলা করেন ওই গৃহবধূ।
অভিযুক্ত আবু বক্করের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু বলেন, ‘এটি জঘন্য অপরাধ। স্বামী বাড়িতে না থাকলে কোনো গৃহবধূ নিরাপদে থাকতে পারবেন না - এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।’