
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর
দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের সঠিক সংখ্যা, ধরন ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ শুমারি পরিচালনা করা হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলাউদ্দিন ভূঞা জনী। স্বাগত বক্তব্য দেন পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নাঈম মাহমুদ। পরে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নৌযান শুমারি ২০২৬-এর সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক হারুন-অর-রশীদ।
সভায় জানানো হয়, আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট দেশব্যাপী নৌযান শুমারি পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের একটি সমন্বিত ডাটাবেইজ তৈরি করা হবে। এই তথ্যভান্ডার নৌযানের নিবন্ধন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা, নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুমারির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৪ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত লিস্টিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় পিরোজপুর জেলাকে ১৮টি জোনে বিভক্ত করে ১৩০ জন গণনাকারীর মাধ্যমে ৪২২টি ঘাট ও ১৫৭টি গণনা এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে ঘাটভিত্তিক ৮ হাজার ৪৫৭টি এবং খানাভিত্তিক ১ হাজার ৬৩টি, মোট ৯ হাজার ৫২০টি নৌযানের প্রাথমিক তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌযানের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান তৈরি, নৌ-দুর্ঘটনার পর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের তথ্যভান্ডার প্রস্তুত, নাবিকদের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে কার্যকর নীতি নির্ধারণ সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), মৎস্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে শুমারি কার্যক্রম নির্ভুল, সুষ্ঠু ও সময়মতো সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং নৌযান মালিক, মাঝি-মাল্লাসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন।