
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের নবগঠিত আংশিক কমিটিকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নে গণঅধিকার পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আলতাফ আকন ও সাধারণ সম্পাদক লিয়ার হোসেন হাওলাদারের স্বাক্ষরে রণগোপালদী ইউনিয়নের এক বছরের জন্য আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার বিকালে নবগঠিত কমিটির সভাপতি মাইদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মামুন তালুকদারসহ নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে গেলে সাবেক ইউনিয়ন আহ্বায়ক ও বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মুছা মাঝির নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তাদের প্রবেশে বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অন্য আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি মাইদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিরোধ চলছিল। সোমবার কার্যালয়ে গেলে মুছা মাঝি ও তার সমর্থকরা তাদের প্রবেশে বাধা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন তালুকদার বলেন, নতুন কমিটি মেনে নিতে না পেরে মুছা মাঝি দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সোমবার পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুছা মাঝি বলেন, তারা কার্যালয়ে বসে আলোচনা করছিলেন। এ সময় মাইদুল ইসলাম ও মামুন তালুকদারের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনিসহ তাদের পক্ষের মিলন মাঝি, রিয়াদ হোসেন ও বশার গাজী আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, তাদের হাসপাতালে চারজন আহত ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মিলন মাঝি ও মুছা মাঝির আঘাত গুরুতর।
উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আলতাফ আকন ও সাধারণ সম্পাদক লিয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণার পর এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।