দশমিনায় কলেজ শিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » দশমিনায় কলেজ শিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ
শুক্রবার ● ১০ জুলাই ২০২৬


 

নিহত দীপা রানী দাস। ছবি- সংগৃহীত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য রনগোপালদী গ্রামে দীপা রানী দাস (৫১) নামে এক কলেজ শিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া কলেজের শিক্ষিকা ছিলেন। ঘটনার পর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় দশমিনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দীপা রানী দাসকে ঝুলতে দেখেন। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

নিহত দীপা রানী দাস উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য রনগোপালদী গ্রামের শুভ্র সূচি দাসের স্ত্রী। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার হিজলবাড়ি গ্রামের প্রয়াত যোগেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে।

 

নিহতের ছোট বোন রাসমনি দাস অভিযোগ করেন, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে দীপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। চাকরির বেতন-ভাতাও স্বামীকে দিতে হতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি মেনে নিতে পারছি না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহতের স্বামী শুভ্র সূচি দাস। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি দোকানে ছিলেন। ছেলে ফোন করে জানায়, তার মা ঘরের দরজা খুলছেন না। পরে পরিবারের সদস্যরা বারান্দা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দীপাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি দাবি করেন, ‘আমি কখনো তাকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করিনি। কেউ এ ধরনের অভিযোগ করলে তা সত্য নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই প্রকৃত বিষয় জানা যাবে।’

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য নির্মল চন্দ্র বলেন, দীপা দাস শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মধ্যে পারিবারিক বিরোধ হলেও পরে তারা স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতেন। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি বলতে পারেননি।

 

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৮:২২ ● ১০০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ