
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনায় এক কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্রের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. এনামুল কবিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাকে বরগুনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বরগুনা সদর হাসপাতালের এমটিইপিআই বিভাগে কর্মরত বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহত ভুক্তভোগী বর্তমানে বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী (১৬) বরিশালের বাকেরগঞ্জ গার্লস স্কুল থেকে ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। প্রায় এক মাস আগে সে বরগুনা পৌরসভার সিরাজউদ্দীন সড়কে অবস্থিত মো. এনামুল কবির পরিচালিত ‘ক্লাসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে’ ভর্তি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই এনামুল কবির কম্পিউটার শেখানোর অজুহাতে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতেন এবং বিভিন্ন সময় তার শরীরে অনভিপ্রেতভাবে স্পর্শ করতেন। গত ৭ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভুক্তভোগী প্রতিদিনের মতো প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গেলে সেখানে আরও দুইজন শিক্ষার্থী ছিল। পরে অন্যরা চলে গেলে একটি কাজ শেষ করার কথা বলে তাকে কক্ষে রাখা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত কম্পিউটার শেখানোর অজুহাতে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
এ সময় ভুক্তভোগী বাধা দিয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তাকে জাপটে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার ডান হাতের কবজি ও বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে আঘাত লাগে। পরে তিনি অভিযুক্তকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা জানান।
এরপর পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে নিয়ে বরগুনা সদর থানায় গেলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে এনামুল কবিরকে আটক করে। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজানুর আলম বৃহস্পতিবার বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, ভুক্তভোগী ও তার মা থানায় এসে অভিযোগ করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে এনামুল কবিরকে আটক করে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচকে/এমআর