
মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে
রাজধানী ঢাকা থেকে কলাপাড়াগামী দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলো সময়মতো গন্তব্যে না পৌঁছানোয় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। একসময় সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে পরদিন সকালে কলাপাড়ায় পৌঁছানো লঞ্চগুলো এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে যায়। এতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ৫-৬ ঘণ্টা লঞ্চে অবস্থান করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সময়মতো লঞ্চ পরিচালনার সক্ষমতা থাকলেও মালিকপক্ষের উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে এই ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় এই নৌপথ ক্রমেই যাত্রী হারাচ্ছে।
ঢাকা-কলাপাড়া নৌপথ দেশের দীর্ঘতম অভ্যন্তরীণ নৌরুট। একসময় এই রুটে একাধিক লঞ্চ প্রতিযোগিতামূলকভাবে চলাচল করলেও বর্তমানে প্রতিদিন একটি করে লঞ্চ চলাচল করছে। পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় নৌপথে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তারপরও উপকূলীয় চরাঞ্চলের মানুষের জন্য এই নৌপথ এখনো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) গত ৬ মে প্রকাশিত ৩২টি নৌপথের দূরত্ব ও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা-কলাপাড়া (খেপুপাড়া) নৌপথের দৈর্ঘ্য ২৭৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার, যা দেশের দীর্ঘতম। ডেক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪০ টাকা।
বর্তমানে এই রুটে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ যাত্রী চলাচল করেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের বাসিন্দা ও বিভিন্ন ঘাটের ব্যবসায়ীরা যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের জন্য এখনো লঞ্চের ওপর নির্ভরশীল।
এমভি সপ্তবর্ণা-৯ লঞ্চের মাস্টার মো. হুমায়ুন কবির জানান, বর্তমানে এই নৌপথে পুবালী-৬, ইয়াদ-৭, জামাল-৮, জাহিদ-৩ ও বাগেরহাট-২ নামে মোট পাঁচটি লঞ্চ বিভিন্ন দিনে চলাচল করছে। কেউ সপ্তাহে একদিন, আবার কেউ দুইদিন ট্রিপ পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ডেক ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া ফ্যামিলি ও ভিআইপি কেবিনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ঢাকা থেকে লঞ্চ ফতুল্লা, চাঁদপুর, বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা, আউলিয়াপুর, চরশিবা, চরকাজল, কোড়ালিয়া, ফেলাবুনিয়া ও বালিয়াতলী হয়ে সর্বশেষ কলাপাড়ায় পৌঁছায়। বর্তমানে একটি ট্রিপ পরিচালনায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হয়।
দীর্ঘ ২১-২২ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, মালিকপক্ষ চাইলে লঞ্চের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে পরদিন সকালেই কলাপাড়ায় পৌঁছানো সম্ভব। এতে কুয়াকাটাগামী পর্যটকদের জন্য নৌপথটি আরও আকর্ষণীয় ও আরামদায়ক হয়ে উঠবে।
স্থানীয়দেরও অভিমত, সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ এই নৌপথ পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ পারিবারিক ভ্রমণের জন্য লঞ্চ এখনো সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক বাহন। অন্যদিকে কুয়াকাটা সড়কপথে, বিশেষ করে ভাঙ্গা-পরবর্তী অংশে সরু সড়কে যান চলাচল তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
আমরা কলাপাড়াবাসীর সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘লঞ্চগুলো যদি সকালে কলাপাড়ায় পৌঁছায়, তাহলে যাত্রী ও পর্যটক- উভয়েরই সময় সাশ্রয় হবে। তাই যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে মালিক সমিতির দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’