
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীসহ উপকূলীয় জনপদের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের ও পুকুর, ভেসে গেছে চাষ করা মাছ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমনের বীজতলা। এতে কৃষি ও মৎস্য খাতে বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা।
বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গাবালীসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক মাছের ঘের ও পুকুর উপচে মাছ ভেসে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যচাষিরা। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টিতে আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েকদিন ধরে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না হাজারো জেলে। ফলে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা। নতুন করে কোনো জেলে যাতে গভীর সাগরে না যান, সে জন্য রাঙ্গাবালী নৌ-পুলিশ উপকূলের বিভিন্ন ঘাটে মাইকিং করে সতর্কতা জারি করেছে।
এদিকে কুয়াকাটার গভীর সাগরে তিনটি মাছধরা ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ১৩ জেলের মধ্যে আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট উদ্ধার হওয়া জেলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ। তবে এখনো আট জেলে নিখোঁজ রয়েছেন বলে কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় বিরূপ আবহাওয়া আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে উপকূলজুড়ে দুর্ভোগ ও উদ্বেগ এখনো কাটেনি।
কেবিডি/এমআর