
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ইলিশ শিকারে গিয়ে বরগুনার তালতলীর দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এতে ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও কালাম পাইক ও শহীদুল খান নামে দুই জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বুধবার দুপুর পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে তালতলী উপজেলার মধ্য আমখোলা গ্রামের তপন জোমাদ্দার ও ফুল মিয়ার মালিকানাধীন দুটি ট্রলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ ঘাট থেকে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারে যায়। ওইদিন বিকেলে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ট্রলার দুটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকলে বুধবার সকালে মৌডুবির একটি ফিশিং ট্রলার ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করে ফকিরহাট ঘাটে নিয়ে আসে।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, কালাম পাইক ও শহীদুল খান ট্রলারের ভেতরেই আটকা পড়ে যান এবং সেখান থেকে বের হতে পারেননি। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অপর দিকে ট্রলার মালিক তপন জোমাদ্দার দাবি করেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নয়, অন্য একটি ট্রলারের ধাক্কায় তার ট্রলার ডুবে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার ট্রলারের দুই জেলে কালাম পাইক ও শহীদুল খান এখনও নিখোঁজ। তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, দুই জেলে নিখোঁজ থাকার বিষয়টি জানা গেছে এবং তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, দুটি ট্রলারে মোট ১৮ জন জেলে ছিলেন। এর মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকতে নিখোঁজ হওয়া দাখিল পরীক্ষার্থী আসাদুল ইসলামকেও একদিন পার হলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।