
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগের খবর প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবিটি বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি হওয়ায় উপকূলের বাসিন্দারা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন নির্বাচনের সময় মহিপুরকে উপজেলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে গত ৫ জুন তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে মহিপুর থানাকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণার আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-১ মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল স্বাক্ষরিত এক পত্রে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে মহিপুর থানা নিয়ে কলাপাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও কুয়াকাটা পৌরসভাকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রশাসনিক উপজেলা গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত মহিপুর থানা বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ এলাকায় দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য বন্দর, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে। কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের একটি বড় অংশও মহিপুর থানা এলাকায় অবস্থিত।
স্থানীয়দের দাবি, মহিপুরে পর্যাপ্ত সরকারি খাসজমি থাকায় ভবিষ্যতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর স্থাপনে তেমন জটিলতা হবে না। একই সঙ্গে পর্যটন ও মৎস্যনির্ভর অর্থনীতির কারণে প্রশাসনিক উপজেলা প্রতিষ্ঠা এ অঞ্চলের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হেদায়েত উল্লাহ বলেন, মহিপুর উপজেলা হলে আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এটি চারটি ইউনিয়ন ও কুয়াকাটা পৌরসভার মাঝামাঝি হওয়ায় মানুষের দাপ্তরিক কাজেও সুবিধা হবে।
ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের ইউনিয়ন থেকে কলাপাড়া উপজেলা প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে, অথচ মহিপুর মাত্র ৫ কিলোমিটার। মহিপুর উপজেলা হলে সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা পাওয়া অনেক সহজ হবে।
লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহিপুর ও আলীপুর দুটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বন্দর। মহিপুর উপজেলা হলে এ অঞ্চলের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রশাসনিক সেবা আরও সহজে পাওয়া যাবে।
মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. ফজলু গাজী বলেন, মহিপুর ভৌগোলিকভাবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও কুয়াকাটা পৌরসভার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। উপজেলা বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে।
মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, মহিপুরকে উপজেলা করা স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। মহিপুর থেকে কলাপাড়া উপজেলা সদর প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। তাই এ এলাকার মানুষের স্বার্থে মহিপুরকে উপজেলা করা প্রয়োজন।