
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় নিখোঁজের চার দিন পর এক ব্যক্তির মরদেহ বাড়ির পেছন থেকে মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
নিহত ব্যক্তি উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া গ্রামের বাসিন্দা হারুন হাওলাদার (৬০)। তার স্ত্রী সেলিনা বেগমকে (৪৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মুলাদী থানা পুলিশ জানায়, গত ২৬ জুন থেকে হারুন হাওলাদার নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মুলাদী থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন।
সোমবার সকালে হারুন হাওলাদারের বাড়ির পেছনে একটি স্থানে মাটি আলগা এবং বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। সন্দেহ হলে তারা সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করে মরদেহের অংশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। স্বজনদের অভিযোগ, সেলিনা বেগমের কথিত পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ ছিল। হারুন হাওলাদার নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রীর আচরণ নিয়েও পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ তৈরি হয়।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সোহেল রানা মঙ্গলবার দুপুরে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সেলিনা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন ওসি।
ওসি খন্দকার সোহেল রানা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেলিনা বেগম জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহের জেরে নিখোঁজ হওয়ার রাতে তিনি তার স্বামী হারুন হাওলাদারকে অণ্ডকোষ চেপে ধরে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বাড়ির পেছনে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। পুরো ঘটনাটি তিনি একাই ঘটিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে সেলিনা বেগমকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।