
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির মোটরসাইকেল মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিএনপি যেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে, সেখানে জামায়াত দাবি করেছে, তাদের এক সমর্থকের ওপর হামলার জেরেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে বিএনপির ওপর হামলার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দলটি।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বন্দর ও দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে কালাইয়া বন্দরে আওয়ামী লীগবিরোধী মোটরসাইকেল মিছিল বের করে বিএনপি। এ সময় কালাইয়া বন্দরের মোল্লা মার্কেট এলাকায় আবদুল হাই রিপ্পি নামে এক জামায়াত সমর্থকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে কালাইয়া ইউনিয়ন জামায়াত ও শিবিরের কিছু নেতাকর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে বায়জিদ ও তামিম নামে দুই ছাত্রদল কর্মীর ওপর হামলা চালায় এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পরে বিএনপির মোটরসাইকেল বহর কালাইয়া থেকে বাউফল পৌর শহরের দিকে যাওয়ার পথে দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে সেখানে আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে আল মামুন (৪০), কাওছার (৩৫) ও মাকসুদুর রহমানকে (২৮) বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাউফল উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ‘কালাইয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হচ্ছে- এমন তথ্য পেয়ে জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ওই মিছিলে ছাত্রলীগ ও জামায়াতের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত করে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।’
অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আবদুল হাই রিপ্পি নামে তাদের এক সমর্থকের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। তবে দাসপাড়া এলাকায় বিএনপির ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
আবদুল হাই রিপ্পির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার এক স্বজন দাবি করেন, কোনো কারণ ছাড়াই রিপ্পির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’