
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌদ্দআনি গ্রামের সারজু মোল্লার বাড়িতে আশ্রিত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন খোকন মোল্লা (৫৫) ও তার পরিবার। বর্তমানে অন্যের বাসায় আশ্রয় নিয়ে কোনোভাবে চলছে তাদের জীবন।
জানা যায়, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল বারেক মোল্লার ছেলে খোকন মোল্লার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছয়জন। তিনি দিনমজুর হিসেবে অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কাজ না থাকলে জীবিকা নির্বাহের জন্য রিকশা চালান।
খোকন মোল্লা বলেন, আমার জন্ম থেকেই পরিবারটি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। বাবা অসুস্থ থাকায় খুব বেশি পড়ালেখা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে নিজের কোনো জমি বা ঘর নেই। মানুষের জমিতে কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালাই। কাজ না থাকলে রিকশা চালাই। সরকার গরিবদের ঘর দেয় বলে শুনেছি। যদি একটি ঘর পেতাম, তাহলে বাকি জীবনটা শান্তিতে কাটাতে পারতাম। অন্যের বাড়িতে আর কতদিন থাকব।
তার স্ত্রী শিউলি বেগম (৪৫) বলেন, আমার স্বামীর আয়ে কোনোভাবে আমাদের ছয়জনের সংসার চলে। অন্যের বাসায় থাকতে হয়, খুব কষ্টে আছি।
প্রতিবেশী হেলাল মোল্লা (৪০) জানান, আমাদের এলাকায় খোকন মোল্লা একজন অসহায় মানুষ। অর্থের অভাবে ঘর তুলতে পারে না। সংশ্লিষ্টরা সহায়তা করলে পরিবারটি স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।
একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল গাজী বলেন, খোকন মোল্লা একজন অসহায় মানুষ। সরকারি সহায়তায় একটি ঘর পেলে তার পরিবার স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।
গ্রাম পুলিশ কামাল চৌকিদার বলেন, গুরিনদা বাদের পূর্ব পাশে খোকন মোল্লার পরিবার অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছে। ছয় সদস্যের এই পরিবার দিনমজুরির আয়ে কোনোভাবে সংসার চালায়।
গণধিকার পরিষদ গলাচিপা উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির মুন্সী বলেন, খোকন মোল্লা একজন দিনমজুর। অর্থের অভাবে ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না। বিষয়টি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
রতনদী তালতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা খান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করব। তার কোনো জমি নেই, আসলেই সরকারি ঘরের দাবিদার তিনি। পরিবারটি সম্পূর্ণভাবে অসহায়।
এসডি/এমআর