
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের মাছ আহরণ নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ১২টায়। দীর্ঘ বিরতির পর মধ্যরাতেই পুনরায় সাগরে ফিরছেন বরগুনার উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা। এতে পাথরঘাটা, বরগুনা, তালতলী ও আমতলীসহ উপকূলজুড়ে জেলে পল্লি ও মাছের আড়তে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।
জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা শেষে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই তা প্রত্যাহার হচ্ছে। খবরে পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাট, বরগুনার বিষখালী, আমতলী ও তালতলীর পায়রা নদীর মাছের আড়তগুলোতে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। ট্রলার সংস্কার, জাল মেরামত, বরফ সংগ্রহ, ডিজেল ও খাদ্যসামগ্রী মজুতের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছেন জেলেরা।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাট থেকে ইতিমধ্যে শত শত ফিশিং ট্রলার সাগরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। কোথাও চলছে ইঞ্জিন পরীক্ষা, কোথাও জাল তোলা, আবার কোথাও বরফ ও জ্বালানি বোঝাই ও ট্রলার মেরামতের ব্যস্ততা।
পাথরঘাটা উপজেলার অর্থনীতির বড় অংশই মৎস্যনির্ভর। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাছ ধরা, পরিবহন, আড়তদারি, বরফকল, জাল তৈরি ও ট্রলার-সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত থাকায় নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে অনেক জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েন। সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছেন।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের জেলে মাঝি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘দুই মাসের বেশি সময় সাগরে যেতে না পারায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এখন আশা করছি ভালো মাছ পাব এবং সংসারের অভাব কিছুটা দূর হবে।’
বরগুনার জেলে সেন্টু মিয়া বলেন, ‘সরকারি সহায়তা পাইনি। চেয়ারম্যান বলেছে যে পরিমান জেলেদের কার্ড তার চেয়ে কম সহায়তা দেওয়া হয়। তাই সবাইকে সব সময় চাল দেওয়া যাচ্ছে না।’
গভীর সমুদ্রগামী ট্রলারের মাঝি আবুল কালাম জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় ট্রলারের ইঞ্জিন ও যন্ত্রপাতি মেরামত করা হয়েছে, জাল ঠিক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকালেই সমুদ্রে রওনা দেব।’
এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছের সরবরাহ বাড়বে—এমন প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের মধ্যে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার ও আড়তদারেরা পাথরঘাটা ঘাটে আসতে শুরু করেছেন।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, দীর্ঘ বিরতির পর জেলে ও ট্রলারমালিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি ট্রলারগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন সবাই ভালো মাছ পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন।
পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হক জানান, সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল। অধিকাংশ জেলে নিয়ম মেনে চলেছেন। এর সুফল হিসেবে এবার মাছের উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।