
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রসবজনিত ফিস্টুলামুক্ত করার লক্ষ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৫ দিনব্যাপী ফিস্টুলা রোগী অনুসন্ধান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় এবং সিআইপিআরবি-এর বাস্তবায়নে আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম চলবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিকাশ রায়। উদ্বোধনের পর একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের হয়ে উপজেলার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্স ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নেন।
উদ্বোধন শেষে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ডা. বিকাশ রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন হাসান রুম্মান এবং মেডিকেল আবাসিক কর্মকর্তা ডা. ববি মালাকার।
বক্তারা বলেন, প্রসবজনিত ফিস্টুলা একটি প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। তারা আরও বলেন, আক্রান্ত নারীরা শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি সামাজিক ও মানসিক সমস্যারও মুখোমুখি হন।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. বিকাশ রায় বলেন, ‘ফিস্টুলা আক্রান্ত কোনো নারী যেন চিকিৎসার বাইরে না থাকেন, সেজন্য মাঠপর্যায়ে নিবিড় অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’ তিনি সম্ভাব্য রোগীদের শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি মো. মহিউদ্দিন হাসান রুম্মান বলেন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগী শনাক্তকরণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত রোগীদের চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া সব প্রসবজনিত ফিস্টুলা রোগীর চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। পাশাপাশি রোগী শনাক্তকারী তথ্যদাতাকে প্রতি রোগীর জন্য এক হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।
ক্যাম্পেইনের আওতায় মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সম্ভাব্য রোগী শনাক্ত করবেন। একই সঙ্গে কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ফিস্টুলা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগ, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মেডিকেল অফিসার, নার্স, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, সিআইপিআরবি প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা কলাপাড়াকে ধাপে ধাপে প্রসবজনিত ফিস্টুলামুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।