
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের সেহাংগল গ্রামের খানবাড়িতে প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় গোলাম মোস্তফা ওরফে স্বপন খানের বিরুদ্ধে। জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রাণনাশ, সম্পত্তি দখল ও ডাকাতির আশঙ্কার অভিযোগ এনে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রবাসী লিটন খানের চাচাতো ভাই মো. ইমরান খান।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রবাসী লিটন খানদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে।
লিখিত অভিযোগে মো. ইমরান খান উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফা ওরফে স্বপন খান, হানিফ খানসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাদের পরিবারের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে তার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলা হয়, যার ফলে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় তিনি সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত করেননি। তার সন্দেহ, বিরোধী পক্ষের লোকজন এতে জড়িত থাকতে পারে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে গোলাম মোস্তফা ওরফে স্বপন খান, হানিফ খানসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাদের রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তিতে বেড়া নির্মাণ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে চাম্বল, আমড়া ও কলাগাছ রোপণ করে জমি দখলের চেষ্টা চালান। এ বিষয়ে এখনও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ইমরান খান আরও জানান, সম্প্রতি কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তরা তার বাড়িতে যান এবং তার মায়ের কাছে নিজেদের মোড়েলগঞ্জ থেকে আসা মেহমান হিসেবে পরিচয় দেন। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তারা চলে যান।
এ ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আশঙ্কা, বিরোধী পক্ষ যে কোনো সময় তাদের বাড়িতে হামলা, ডাকাতি কিংবা প্রাণনাশের মতো ঘটনা ঘটাতে পারে।
মো. ইমরান খান বলেন, আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কারণে আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। সম্ভাব্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম মোস্তফা ওরফে স্বপন খান বলেন, আমাদের পরিবার প্রায় ২৫০ বছর ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছে। সেখানে অনেক গাছ আমার বাবা আমাকে সঙ্গে নিয়ে রোপণ করেছেন। পরে জানতে পারি, বিএস রেকর্ড সাবেক এসপি মরহুম আব্দুল হাকিম খানের নামে হয়েছে। তাই বলে জায়গা ছেড়ে দেওয়া যায় না। জমি আমার দখলেই ছিল। গরু-ছাগল প্রবেশ করায় আমি বেড়া দিয়েছি।
ইমরান খানের বাড়িতে অপরিচিত লোকজন নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, তারা খানবাড়ির বংশধর। প্রায় ১৫০ বছর আগে তারা এখান থেকে মোড়েলগঞ্জে চলে গেছেন। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শুনে তারা জায়গাটি দেখতে এসেছিলেন। একসময় মরহুম এসপি সাহেবের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল, আমাদের সঙ্গে ছিল না।
স্থানীয়রা জানান, জমিজমা-সংক্রান্ত এ বিরোধ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরএ/এমআর