
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার আমতলীতে নবনির্মিত একটি ভবনের সেফটি ট্যাঙ্কের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমতলী একে স্কুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- জাহিদুল হাওলাদার (৩৫) ও জাফর হাওলাদার (৫০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ইউসুফ আলীর একে স্কুল এলাকার নির্মাণাধীন পাকা ভবনের সেফটি ট্যাঙ্কের সেন্টারিং খোলার কাজ চলছিল। এ সময় শ্রমিক জাহিদুল হাওলাদার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ট্যাঙ্কের ভেতরে নামেন। নামার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি চিৎকার শুরু করেন। তাকে উদ্ধার করতে অপর শ্রমিক জাফর হাওলাদারও ট্যাঙ্কের ভেতরে নামেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন। পরে তাদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আবু হানিফ বলেন, সেফটি ট্যাঙ্কের ভেতরে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড ও ফরমালিন গ্যাসের উৎপত্তি হয়। শ্রমিকরা অসাবধানতাবশত ট্যাঙ্কে নেমে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে গ্যাস নিয়ন্ত্রণ ও ট্যাঙ্কের মুখ ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত জাহিদুলের বাড়ি উপজেলার হলদিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আজিজ হাওলাদার। অপরজন জাফর হাওলাদারের বাড়ি বেতমোর গ্রামে। তার বাবার নাম ইউনুস মিয়া।
জাফরের ভগ্নিপতি রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, ভবন মালিকের অসচেতনতার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানান।
এদিকে ঘটনার পরপরই বাড়ির মালিক মাওলানা মো. ইউনুস মিয়া পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।