পায়রা বন্দর চেয়ারম্যানকে শুভেচ্ছা জানাল জিয়া কলোনীর ভূমিহীনরা

হোম » পায়রা বন্দর » পায়রা বন্দর চেয়ারম্যানকে শুভেচ্ছা জানাল জিয়া কলোনীর ভূমিহীনরা
রবিবার ● ২৪ মে ২০২৬


 

পায়রা বন্দর চেয়ারম্যানকে শুভেচ্ছা জানাল জিয়া কলোনীর ভূমিহীনরা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারগুলো পায়রা বন্দর চেয়ারম্যানকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। রবিবার (২৪ মে) সকাল ১১টার দিকে ঈদ কার্ড নিয়ে পায়রা বন্দরের গেটে উপস্থিত হন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক বাসিন্দা।

 

এসময় চেয়ারম্যানের পক্ষে তাঁর একান্ত সচিব মো. আহসান হাবীব শুভেচ্ছা কার্ড গ্রহণ করেন।

 

জানা গেছে, পায়রা বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের পাশে ইটবাড়িয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের ঢালে জিয়া কলোনীর ভূমিহীন পরিবারগুলো প্রায় দুই দশক ধরে বসবাস করছে। ২০০৪ সালে বাস্তুভিটাহীন এসব পরিবারকে আন্ধারমানিক নদীর পাড়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তারা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সেখানে বসবাস করে আসছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালে বেড়িবাঁধের ওপর প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

 

জিয়া কলোনীর বাসিন্দা লাইলী বলেন, আমরা পায়রা বন্দরের সবচেয়ে কাছের মানুষ। বন্দরের বিল্ডিংয়ের পাশের বাঁধে বসবাস করি। যে কোনো সময় আমাদের উচ্ছেদ করা হতে পারে। তাই ঈদ উপলক্ষে চেয়ারম্যানকে আমাদের বাড়িতে দাওয়াত জানিয়েছি।

 

আরেক বাসিন্দা মো. ফোরকান হাওলাদার বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত উচ্ছেদ আতঙ্কে আছি। চেয়ারম্যান যদি একবার আমাদের কলোনীতে আসেন, তাহলে আমাদের পরিস্থিতি বুঝতে পারবেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল থেকে টিয়াখালী প্রশাসনিক ভবনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে বিকল্প সড়ক হিসেবে বন্দরের গেট থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের কারণে জিয়া কলোনীসহ বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসরত আনুমানিক ১৩৬টি ভূমিহীন পরিবার উচ্ছেদের মুখে পড়েছে।

 

বাসিন্দাদের দাবি, তারা যে জমিতে বসবাস করছেন সেটির মালিক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে উচ্ছেদ করা হলেও ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।

 

কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জিয়া কলোনী পায়রা বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের খুব কাছেই। কিন্তু এখনো চেয়ারম্যান সেখানে যাননি। আমরা আশা করছি, ঈদের দিনে তিনি পরিবারগুলোর দুর্দশা দেখতে যাবেন এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেবেন।

 

ভূমিহীন বাসিন্দা শাহানা বেগম বলেন, সরকার রাস্তা করবে এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু করে দিতে হবে। আমরা চাকরি বা অন্য সুবিধা চাই না, শুধু পুনর্বাসন চাই।

 

ভূমিহীন পরিবারগুলোর অভিযোগ, পায়রা বন্দরের জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য পরিবার পুনর্বাসনের আওতায় এলেও তাদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে তারা সড়ক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও পরিকল্পনা নিয়ে অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৭:৫০ ● ২২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ