বরগুনায় সড়ক অনিয়মে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খান বদলি

হোম » বরগুনা » বরগুনায় সড়ক অনিয়মে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খান বদলি
রবিবার ● ১৭ মে ২০২৬


বরগুনায় সড়ক অনিয়মে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খান বদলি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

বরগুনার তালতলী উপজেলার বগী কড়াইবাড়িয়া সড়কের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর ৩ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ২৪ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগের পর বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসান খানকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাকে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

একই সঙ্গে পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীরকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বরগুনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো: বেলাল হোসেনের স্বাক্ষরিত আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

 

স্থানীয় সূত্র ও একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বরগুনার তালতলী উপজেলার বগী কড়াইবাড়িয়া সড়কের কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, কাজ চলাকালীন যথাযথ তদারকি না থাকায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাতের বেলায় কাজ সম্পন্ন করে এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চালায়।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সড়কে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয় এবং দরপত্র অনুযায়ী প্রাইম কোট না দিয়ে সরাসরি বিটুমিন ঢালাই করা হয়। ফলে নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই বিটুমিন মিশ্রিত খোয়া হাত দিয়ে তুলেও ফেলা যায়- এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজসেবক জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যখন ঘুমায় তখন রাতের বেলায় কাজ করা হয়েছে। নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা নিষেধ করলেও ঠিকাদার পক্ষ তা মানেনি। সরকারি কোনো তদারকি ছিল না।’

 

নথিপত্র বিশ্লেষণে আরও অভিযোগ ওঠে যে, দরপত্র আহ্বানের শুরু থেকেই অনিয়ম ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসান খান এবং তৎকালীন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন মোল্লা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন মোল্লা দরপত্রে অংশ নেওয়া ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ শতাংশ হারে ঘুষ দাবি করেন, যা দিতে রাজি হয়নি অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

 

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দরপত্র আহ্বানের পর অংশ নেয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে খাইরুল কবির রানা প্রথম হন, দ্বিতীয় জাকাউল্লাহ ব্রাদার্স, তৃতীয় শেখ এন্টার প্রাইজ, চতুর্থ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স, পঞ্চম নিপা এন্টারপ্রাইজ এবং ষষ্ঠ ইথেন এন্টারপ্রাইজ। তবে প্রথম থেকে পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কাউকে কাজ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা ইথেন এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেওয়া হয়, যা নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসান খানের আশীর্বাদে হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

 

এলজিইডির এই প্রকল্পে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, রাতের বেলায় কোনো সরকারি তদারকি ছাড়াই নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করে কাজ করা হয়েছে এবং স্থানীয়রা বাধা দিলে তাদের মামলা ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসান খান পূর্বে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন হয়নি। তিনি দাবি করেন, প্রথম পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় তাদের কাজ দেওয়া হয়নি।

 

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ইতোমধ্যে তাকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে মো: মেহেদী হাসান খানকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। এলজিইডির এক কর্মকর্তা জানান, বদলির আদেশ এখনো বরগুনা অফিসে পৌঁছেনি, তবে বিষয়টি তারা অবগত আছেন। তিনি আরও জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১০:০০ ● ৩৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ