সুন্দরবনে দুই দিনে ২০ জেলে-মৌয়াল অপহরণ, বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক

হোম » জেলে-মৎস্য » সুন্দরবনে দুই দিনে ২০ জেলে-মৌয়াল অপহরণ, বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক
বুধবার ● ৬ মে ২০২৬


 

সুন্দরবনে দুই দিনে ২০ জেলে-মৌয়াল অপহরণ, বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)

সুন্দরবনের নদী-খাল এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বনদস্যু চক্র। মাছ, কাঁকড়া আহরণ ও মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে গত দুই দিনে অন্তত ২০ জন জেলে ও মৌয়াল অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনায় উপকূলীয় বনজীবীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে বনে কাজ শেষে ফিরে আসা জেলে ও অপহৃতদের স্বজনদের বরাতে এসব তথ্য জানা যায়।

 

তাদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালী খাল, মামুন্দো নদীর মাইটভাঙা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতেবাড়ি খাল এলাকায় পৃথকভাবে এসব অপহরণের ঘটনা ঘটে।

 

অপহৃতদের সহকর্মীরা জানান, অস্ত্রধারী একটি দস্যু দল নিজেদের ‘আলিফ বাহিনী’ ও ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন নৌকায় হামলা চালায়। পরে প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে জেলে বা মৌয়ালকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় তারা।

 

যাদের অপহরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের আল-মামুন, মনিরুল মোল্লা, সঞ্জয় মণ্ডল, হৃদয় মণ্ডল, রবিউল ইসলাম বাবু, রবিউল ইসলাম, শুকুর আলী গাজী, হুমায়ুন; ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের আব্দুল সালাম ও আবুল কালাম; রমজাননগর ইউনিয়নের শাহাজান গাজী, সিরাজ গাজী, আবুল বাসার বাবু, আল-আমিন, ইব্রাহিম গাজী এবং হরিনগরের মুরশিদ আলম। নিরাপত্তার কারণে আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

 

স্বজনদের দাবি, অপহরণের পর কিছু পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছে দস্যুরা। এর মধ্যে ইব্রাহিম গাজীর জন্য ৩০ হাজার টাকা, মুরশিদ আলমের জন্য ১ লাখ টাকা এবং আব্দুল সালামের জন্য ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা নতুন নয়। অতীতেও একই ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কার্যকর দমন অভিযান না থাকায় তারা আবারও সক্রিয় হয়েছে বলে দাবি তাদের।

 

বনজীবীরা বলছেন, জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের বনজ সম্পদ আহরণে যেতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, অপহরণের বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক পরিবার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখাচ্ছে।

 

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, জিম্মিদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক সময় স্বজনরা তথ্য গোপন করেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৫:২৩ ● ২৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ