দুমকিতে দখল দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে পিরতলার খাল

প্রথম পাতা » পটুয়াখালী » দুমকিতে দখল দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে পিরতলার খাল
বৃহস্পতিবার ● ২৪ নভেম্বর ২০২২


দুমকিতে দখল দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে পিরতলার খাল

দুমকি (পটুয়াখালী) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

দখল আর দূষণের কারনে অস্তিত্ত হারাচ্ছে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পিরতলার খাল। উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র একসময়ের ঐতিহ্যবাহী পিরতলার হাট থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৩০লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করছে। দখল-দূষনে ভরাট হয়ে খালটির করুন দশা হওয়ায় জৌলুস হারাতে বসেছে পিরতলার হাট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে পিরতলা বাজারের প্রতিদিনের আবর্জনা ও ময়লাবর্জ ফেলায় দখল-দুষণ হতে হতে প্রায় দু’তৃতীয়াংশ খাল ভরাট হয়ে প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। থানাব্রিজ থেকে বাজারের উত্তর সীমানা পর্যন্ত সরকারি রেকর্ডিও খালের উভয় তীর দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। অবশিষ্ট খালে ময়লা আবর্জনা ফেলায় বহু আগেই ভরাট হয়ে স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বন্ধ ও নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানা যায়, এক সময়ের ঐতিহ্যবাহি পিরতলা বাজারের ব্যবসায়িরা এ খাল দিয়ে নৌ-পথে মালামাল আনা নেয়া করতো। নৌ-চলাচলের সুবিধা থাকায় বিভিন্ন মোকাম থেকে ব্যবসায়িরা স্বল্প ব্যয়ে সহজেই পণ্য এনে বেচা-কেনা হতো। তখনকার বাজারটির বেশ পরিচিতি ছিল। প্রতি রবি ও বুধবার এখানে সাপ্তাহিক হাটের দিন। তাই প্রতি হাটবারে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বেপারীদের মিলনমেলায় পরিণত হতো পিরতলার হাট। নৌ-পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারনে হাট ও বাজারের জৌলুস হারাতে বসেছে।
বাজারের ব্যবসায়ি হরিপদ সাহা বলেন, নৌপথ বন্ধ হওয়ায় সড়ক পথে পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। ফলে এ বাজারের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে চলছে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে ভোগান্তিরও শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ইসলাম ট্রেডার্সের মালিক আজাহার আলী মৃধা বলেন, একসময়ে নৌপথে ইট, বালু, সিমেন্ট, রডসহ ইমারত নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন সহজ ছিল বলে দামও কম ছিল। আজকে খাল দখল ও ভরাট হয়ে নৌপথ বন্ধ থাকায় ট্রাকে মালামাল পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে।
এ বিষয়ে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সালাম বলেন, ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট যায়গার অভাবে পিরতলা বাজারের ময়লা খালের ফেলায় পরিবেশ দুষণ হচ্ছে তা ঠিক। তবে খালের উভয় মুখে পাউবোর স্লুইজগেটে আবদ্ধ থাকার পাশাপাশি অবৈধ দখদারদের কারণে খালটির অস্তিত্ব সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিষদের পক্ষথেকে বহুভাবে চেষ্টা করা হলেও নানা কারণে বার বার ব্যর্থ হয়েছি। দীর্ঘ চেষ্টার পর সম্প্রতি খালটির পুণ:খনন প্রকল্প পাশ হয়েছে। আশা করছি চলতি মৌসুমেই খাল পুণ:খনন কাজ শুরু হবে। খাল পুণ:খননে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হলে সমস্যা অনেকাংশেই কেটে যাবে।


এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২২:১৭:০৭ ● ১১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ