
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফলে প্রবীণ সাংবাদিক ও বাউফল প্রেসক্লাবের একাধিকবারের সাবেক সভাপতি অতুল চন্দ্র পালকে (৬২) প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মো. ফয়সাল খানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন সাংবাদিক ও তার পরিবার।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী অনিতা পালকে সঙ্গে নিয়ে এক স্বজনের চিকিৎসার জন্য বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান অতুল চন্দ্র পাল। বেলা ১১টার দিকে জরুরি বিভাগের সামনে চিকিৎসকের খোঁজে যাওয়ার সময় ফয়সাল খান তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অতুল চন্দ্র পাল বলেন, ফয়সাল আমাকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে বুকে আঘাত করেন এবং তার ছেলে আমার অণ্ডকোষ চেপে ধরে। এ সময় আমাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়। পরে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর মোটরসাইকেল থামিয়ে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভয়ের কারণে আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন না।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফয়সাল খান বলেন, লাঞ্ছনা বা হুমকির অভিযোগ সত্য নয়। তবে তার সঙ্গে আমার আর্থিক বিষয়ে বিরোধ রয়েছে। তার কারণে আমার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, সেই টাকা চেয়েছিলাম।
এ বিষয়ে অতুল চন্দ্র পাল বলেন, ফয়সালের সঙ্গে তার কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। বরং সাত-আট বছর আগে এক ব্যবসায়ীর জমিতে সীমানা দেয়াল নির্মাণ নিয়ে ফয়সাল চাঁদা দাবি করেছিলেন, যেখানে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন এবং অতিরিক্ত কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর এক বিএনপি নেতাকে মারধরের ঘটনায় ফয়সাল খানকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তাকে পুনর্বহাল করা হয়। এর পরপরই বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় তার নাম জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/এমআর