রাঙ্গাবালীতে এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে টাকা আদায়ের অভিযোগ

হোম » শিক্ষা » রাঙ্গাবালীতে এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে টাকা আদায়ের অভিযোগ
মঙ্গলবার ● ২১ এপ্রিল ২০২৬


 

এটি সংগৃহীত এবং প্রতীকী ছবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী প্রবেশপত্র বিতরণে কোনো ফি না থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফরম পূরণের সময়ই বোর্ড নির্ধারিত পরীক্ষা ফি, কেন্দ্র ফি ও ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি পরিশোধ করা হয়েছিল। এরপরও প্রবেশপত্র নিতে গিয়ে ‘কেন্দ্র খরচ’, ‘পরিচালনা ব্যয়’ ও ‘শিক্ষকদের যাতায়াত খরচ’সহ নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ছোটবাইশদিয়া ফজলুল করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাছিয়াবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টুঙ্গিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চরমোন্তাজ আব্দুল ছত্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাঙ্গাবালী হামিদিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় এক হাজার টাকা এবং অনিয়মিতদের কাছ থেকে কিছুটা কম নেওয়া হয়েছে।

কাছিয়াবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল বশার বলেন, ‘কেন্দ্র পরিচালনা ব্যয়ের জন্য কেন্দ্র সচিবদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়মিতদের কাছ থেকে এক হাজার এবং অনিয়মিতদের কাছ থেকে ৮০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।’ ছোটবাইশদিয়া ফজলুল করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব সাজেদা বেগম বলেন, ‘ফরম পূরণের সময় কেন্দ্র ফি নেওয়া হয়নি, এখন নেওয়া হচ্ছে। এটি কেন্দ্র পরিচালনার খরচ।’

রাঙ্গাবালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৭৩৪ জন, ১১টি মাদ্রাসা থেকে ৫৩০ জন এবং তিনটি ভোকেশনাল শাখা থেকে ৯৬ জনসহ মোট এক হাজার ৩৬০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। সর্বনিম্ন ৮০০ টাকা হিসেবে হিসাব করলে আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় দাঁড়ায়, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর বলেন, ‘প্রবেশপত্র বিতরণের সময় টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।’ রাঙ্গাবালীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু. আকরাম হোসেন খান বলেন, ‘কেন্দ্র পরিচালনা ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও এত টাকা নেওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১০:২৬:১৭ ● ২৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ