বাউফলে তরমুজের দামে ধস, খেতেই পচছে ফল; লোকসানে দিশেহারা চাষিরা

হোম » কৃষি » বাউফলে তরমুজের দামে ধস, খেতেই পচছে ফল; লোকসানে দিশেহারা চাষিরা
রবিবার ● ১৯ এপ্রিল ২০২৬


 

বাউফলে তরমুজের দামে ধস, খেতেই পচছে ফল; লোকসানে দিশেহারা চাষিরা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)

মাঠভরা তরমুজ, কিন্তু নেই ক্রেতা- দাম না থাকায় খেতেই পচে নষ্ট হচ্ছে পাকা ফল। এমন পরিস্থিতিতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তরমুজচাষিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। অধিক উৎপাদন, রোগের প্রাদুর্ভাব, বাড়তি খরচ ও পরিবহনসংকট মিলিয়ে চলতি মৌসুমটি তাদের জন্য বড় লোকসানের হয়ে উঠেছে।

 

কৃষি বিভাগ জানায়, এ মৌসুমে বাউফলে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অধিক লাভের আশায় নতুন অনেক চাষি যুক্ত হলেও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামের ধস নেমেছে।

 

চাষিদের ভাষ্য, রমজানের শুরুতে বাজারদর ভালো থাকলেও তখন তরমুজ পরিপক্ক হয়নি। ঈদের পর একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ তরমুজ বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি ও ক্রেতা কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দর দ্রুত পড়ে যায়। অন্যদিকে ডিজেলের দাম ও সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় লোকসান আরও বেড়েছে।

 

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চাষি মো. লোকমান হোসেন ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচ করে উৎপাদিত ফসল থেকে আয় হয়েছে মাত্র ২০ লাখ টাকা। গামি স্টেম ব্লাইট রোগে তার প্রায় ৭ হাজার ৫০০ গাছ নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘খরচ সামলানোই কঠিন হয়ে গেছে, শেষ পর্যন্ত বাজারে দাম না পেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।’

 

প্রথমবার তরমুজ চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চর কালাইয়া এলাকার চাষি মো. শাহিন প্যাদা। ৫ একর জমিতে আবাদ করা তার খেতের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার গাছ অজানা রোগে মারা যায়, এতে তার প্রায় ৮ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

 

চন্দ্রদ্বীপের আরেক চাষি মো. আলমগীর হোসেন সাগরকন্যাকে জানান, ঈদের আগে ১০০ পিস তরমুজ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও ঈদের পর তা নেমে আসে মাত্র ৭ হাজার টাকায়। এতে তার প্রায় ১৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

 

স্থানীয় কৃষকদের মতে, বাউফলের চরাঞ্চলে গত এক দশকে তরমুজ চাষ দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। তবে পরিকল্পনাহীন অতিরিক্ত আবাদই এবার বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় ৭০ শতাংশ চাষি লোকসানের মুখে পড়েছেন।

 

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন জানান, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। তিনি আরও জানান, পরিকল্পিত আবাদ ও সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতেও চাষিদের এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:০৮:৩৯ ● ১২২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ