তালতলীতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে পচা ডিম-রুটি সরবরাহের অভিযোগ

হোম পেজ » লিড নিউজ » তালতলীতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পে পচা ডিম-রুটি সরবরাহের অভিযোগ
শুক্রবার ● ৩ এপ্রিল ২০২৬


 

প্রতীকী ছবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

তালতলী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় শিশু শিক্ষার্থীদের পচা ডিম, পচা রুটি ও কাঁচা কলা সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা’র বিরুদ্ধে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

জানা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে সরকারের স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় তালতলী উপজেলার ৭৯টি বিদ্যালয়ের ৭ হাজার ২৭০ জন শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের একটি ডিম, রুটি, কলা, বিস্কুট ও দুধ সরবরাহের কথা রয়েছে। এর মধ্যে ডিম, রুটি ও কলা সরবরাহের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। গত ২৯ মার্চ থেকে তারা সরবরাহ শুরু করে।

 

তবে শুরু থেকেই নিম্নমানের ও নষ্ট খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একসঙ্গে দুই দিনের রুটি সরবরাহ করা হচ্ছে, যা সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং ফাঙ্গাস পড়ছে। পাশাপাশি কিছু সিদ্ধ ডিমের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে, যা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কাঁচা কলাও নিম্নমানের অবস্থায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

সরদারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন ও মারিয়া বলেন, ডিম ও রুটি পচা থাকায় খেতে পারেনি, তাই ফেলে দিয়েছে। তারা আরও বলেন, ‘সরকারের দেওয়া খাবার যদি পচা হয়, তাহলে আমরা খেতে পারব কীভাবে।’

 

ছাতনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীও একই অভিযোগ করে সাগরকন্যাকে জানায়, পচা ডিম ও রুটি খাওয়া সম্ভব হয়নি।

 

গাবতলী রফিক মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, সরবরাহকৃত ডিমের মধ্যে বেশ কিছু পচা ডিম পাওয়া গেছে। দুই দিনের রুটি একসঙ্গে সরবরাহ করায় তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং ফাঙ্গাস পড়ছে।

 

খাবার সরবরাহকারী মো. ইউনুস মিয়া বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে পণ্য দিয়েছে, তিনি তা বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে পচা ডিম ও রুটির বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে অবহিত করেছে।

 

গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প পরিচালক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘ডিম তো কেউ নিজে থেকে পেড়ে দেয় না। কিছু পচা ডিম পাওয়া গেছে বলে শুনেছি। পরবর্তী সপ্তাহ থেকে মান যাচাই করে ভালো পণ্য সরবরাহ করা হবে।’

 

তালতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার বহুল প্রচারিত অনলাইন নিউজ পের্টাল সাগরকন্যাকে বলেন, একাধিক বিদ্যালয় থেকে পচা ডিম, রুটি ও কাঁচা কলা সরবরাহের অভিযোগ পেয়েছি। প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোনোভাবেই পচা খাবার শিশুদের দেওয়া যাবে না। বিষয়টি নিয়ে আগামী সোমবার প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সভা করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৩:২২ ● ২৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ