
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলাকে কাগজে-কলমে শতভাগ বিদ্যুৎ সম্বলিত উপজেলা ঘোষণা করা হলেও এখনও একাধিক গ্রামের শত শত পরিবার কেরোসিন বাতির আলোয় জীবনযাপন করছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত এসব পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম মধুখালী, উত্তর চরপাড়া ও ইসলামপুর গ্রামের অধিকাংশ পরিবার গত প্রায় চার বছর ধরে বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। ২০০১ সালে কাগজে-কলমে শতভাগ বিদ্যুৎ সম্বলিত উপজেলা হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে এসব গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস, ঠিকাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার ধরনা দিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি। তাদের অভিযোগ, আশ্বাস মিললেও বাস্তবায়ন হয়নি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগের কথা বলে কিছু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
পশ্চিম মধুখালী গ্রামের আবু ইউসুফ আকন বলেন, ‘আমাদের বাড়িসহ আশপাশের অন্তত দশটি পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। সংযোগের কথা বলে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হলেও তিনটি খুঁটি বসানোর পর আর কোনো কাজ হয়নি, এখনো তার টানা হয়নি।’
আরামগঞ্জ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. সিয়াম বলেন, ‘কেরোসিনের ল্যাম্প ও হ্যারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে হয়। এতে রাত হলে ভোগান্তি বাড়ে। সোলার থাকলেও তা যথেষ্ট নয়।’
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল বলেন, এই তিন গ্রামের শতাধিক পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দী বলেন, এসব পরিবারসহ আরও কয়েকটি গ্রামের কিছু অংশ বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। নতুন প্রায় ১৮ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ হলেও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, এই তিন গ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের সভায় লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে।