
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
দীর্ঘদিনের খরার পর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে হালকা বৃষ্টিতে রবি ফসলে স্বস্তি ফিরেছে। শনিবার (২১ মার্চ) ভোররাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ক্ষেতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
ঈদুল ফিতরের দিন সকালে বৃষ্টি হওয়ায় ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন মুসল্লিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মুগডাল ৫ হাজার ২৮০ হেক্টর, বোরো ধান ১৫২ হেক্টর, মিষ্টি আলু ১২৮ হেক্টর, ভুট্টা ৩৫ হেক্টর, শীতকালীন সবজি ৫৬৭ হেক্টর, তরমুজ ২৫০ হেক্টর, সরিষা ৩২.৫ হেক্টর, চিনাবাদাম ১২০ হেক্টর, মরিচ ২৯৫ হেক্টর, খেসারি ২ হাজার ২০০ হেক্টর এবং সূর্যমুখী ৪০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। বৃষ্টিপাতের ফলে এসব ফসলের পাশাপাশি পানের বরজ, আম ও কলারও উপকার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পূর্ব সুবিদখালী এলাকায় পায়রা নদী চরে তরমুজ চাষি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, চাষ শুরু করার পর থেকে বৃষ্টি হয়নি, নদী থেকে সেচ দিয়ে পানি দিতে হয়েছে। এ বৃষ্টি কয়েকদিন আগে হলে ফলন আরও ভালো হতো। তবে এখনো ফলন বাড়বে বলে আশা করছি।
কাকড়াবুনিয়া গ্রামের মুগডাল চাষি ধীরেন বলেন, বৃষ্টির অভাবে ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছিল, গাছ বিবর্ণ হয়ে পড়েছিল। শনিবারের বৃষ্টিতে দুই-তিন দিনের মধ্যে ক্ষেত আবার সবুজ হয়ে উঠবে। কৃষকের জন্য এই বৃষ্টি আশীর্বাদ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দীর্ঘদিন পর হওয়া এ বৃষ্টিতে আমের মুকুল ও রবি ফসলের ব্যাপক উপকার হয়েছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে কিছু ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য কৃষকদের সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা কাজ করছেন।