
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙন স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন নদীর তীব্র স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে পাড়, ঝুঁকির মুখে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতঘর ও গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ। এ অবস্থায় নদীভাঙন রোধ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রবিবার সকালে আউলিয়াপুর এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের চোখেমুখে ছিল আতঙ্ক ও ক্ষোভ।
বক্তারা বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনের কারণে এলাকার ঐতিহ্যবাহী ৪৪ নং গুলি আউলিয়াপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আউলিয়াপুর দাখিল মাদ্রাসা এখন চরম হুমকির মুখে রয়েছে। নদী থেকে প্রতিষ্ঠান দুটির দূরত্ব দিন দিন কমে আসছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় প্রতিষ্ঠান দুটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, আশপাশের ফসলি জমি ও শতাধিক পরিবারও হুমকির মুখে পড়বে।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে নদীর তীরে ব্লক স্থাপন, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষায় স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, প্রতিবার ভাঙন দেখা দিলে শুধু আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু কার্যকর কোনো কাজ হয় না। এবার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান ওয়ালিউল ইসলাম রুবেল, আউলিয়াপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. হেলাল উদ্দিন, ৪৪ নং গুলি আউলিয়াপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মন্নান হাওলাদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এলাকাবাসীর দাবি, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আউলিয়াপুর এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা, কৃষি ও জনজীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।