
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় চিকিৎসকের অবহেলায় রাঙ্গাবালী উপজেলার উদীয়মান ছাত্রদল নেতা নিবিড় মাহমুদের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্রদলের নেতারা।
বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১টার দিকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিনের অনুপস্থিতিতে মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নূর উদ্দিনের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর কাছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আরিফ বিল্লাহ, ছাত্রদল নেতা জাফর আল নোমান, আহসান ইমরান ও নিশাদ আহমেদসহ অন্যরা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা ছয়টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—তিন কার্যদিবসের মধ্যে অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, চিকিৎসকের অবহেলা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ এলাকার সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়মিত মনিটরিং ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা, নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সম্প্রতি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ মার্চ জ্বর ও ডায়রিয়া নিয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলার ছাত্রদল নেতা নিবিড় মাহমুদ গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। এ সময় চিকিৎসকের চরম অবহেলার কারণে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফকে সভাপতি, বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. শেখ শহিদুল ইসলামকে সদস্য এবং সহকারী সার্জন ডা. গোলাম মোস্তাহিদ তাসরিফকে সদস্যসচিব করে এ কমিটি করা হয়েছে। তারা চার কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জেলা সিভিল সার্জনের কাছে জমা দেবেন বলে তিনি জানান।