
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে রবিবার সকাল ১০টায় বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়া ইউনিয়নের নয়আনী গ্রামে ‘নারী কৃষক সম্মিলন ও দাবি বৃক্ষ উপস্থাপন’ শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিটি যৌথভাবে আয়োজন করে প্রান্তজন ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে নারী কৃষক, স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মী মিলিয়ে মোট ১৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিভাগীদের বক্তব্যে নারী কৃষকরা তাদের দৈনন্দিন কৃষিশ্রম, সংগ্রাম এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বাস্তবতা তুলে ধরেন। নারী কৃষক মোসাঃ পারুল বেগম জানান, কৃষিক্ষেত্রে নারীর অবদান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত না হওয়ায় আমরা কৃষক পরিচয়পত্র, কৃষিঋণ, সরকারি ইনপুট, প্রশিক্ষণ, বাজারসংযোগ ও স্থানীয় কৃষি কমিটিতে অংশগ্রহণসহ গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ফসল উৎপাদন, গবাদিপশু পালন, বীজ সংরক্ষণ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পরও আমাদের কাজকে সামাজিকভাবে ‘সহযোগিতা’ হিসেবে ধরা হয়, যা একটি বড় বৈষম্য।
বরিশাল পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সদস্য আক্তারুল কবির বলেন, নারী কৃষকের অধিকার, ভূমি মালিকানা ও ন্যায্য স্বীকৃতি নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই হবে না। এই বছরের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ এর তাৎপর্য এভাবেই স্পষ্ট।
স্থানীয় প্রতিনিধিরা বলেন, দেশের খাদ্য ব্যবস্থাকে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নারীবান্ধব করতে হলে ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। নারী কৃষকরা আশা প্রকাশ করেন, এই আইনের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, বণ্টন ও নীতি পরিকল্পনায় নারীর প্রয়োজন, অধিকার ও শ্রমের স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে।
আয়োজনের আকর্ষণ ছিল নারী কৃষকদের প্রতীকী দাবি বৃক্ষ উপস্থাপন। নারী কৃষকরা বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপ দিয়ে এক যৌথ ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করে কৃষিতে নারীর অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানান।