সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি আমতলীতে গণধোলাইয়ে একজন আটক, দুজন পলাতক

হোম পেজ » লিড নিউজ » সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি আমতলীতে গণধোলাইয়ে একজন আটক, দুজন পলাতক
সোমবার ● ২ মার্চ ২০২৬


 

প্রতীকী ছবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

আমতলীতে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এক অটোচালকের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনজনকে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয়রা। রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গণধোলাইয়ের পর মিরাজ মিয়াকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়; অপর দুজন পালিয়ে যায়।

 

জানা গেছে, আমতলী পৌর শহরের মনিরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। রবিবার বিকেলে উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের অটোচালক কবির হাওলাদার যাত্রী নিয়ে তালুকদার বাজারে যাওয়ার পথে একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন তার অটোরিকশার গতিরোধ করে। তারা যাত্রীদের নামিয়ে কবির হাওলাদারকে গাঁজার ব্যবসার অপবাদ দিয়ে মারধর করে এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলে ওই অটোচালকের অভিযোগ।

 

এ সময় অন্যান্য অটোচালক ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা অভিযুক্তদের গণধোলাই দেয়। এতে মনিরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান পালিয়ে যান এবং মিরাজ মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আহত মনিরুল ইসলাম আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনায় আমতলী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে থানা সূত্রে জানানো হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী অটোচালক ওসমান মিয়া সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং না দেওয়ায় মারধর করে। প্রতিবাদ করলে তাকেও পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

অটোচালক কবির হাওলাদার বলেন, মোটরসাইকেলে এসে তার অটোরিকশার গতিরোধ করে কলার ধরে নামিয়ে মারধর করা হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান।

 

কথিত সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, আহত মনিরুল ইসলামকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মোঃ কুদরাত-ই খুদা বলেন, বিষয়টি জেনে আমতলী থানার ওসিকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জেলায় চাঁদাবাজির কোনো স্থান নেই; যেখানে চাঁদাবাজি হবে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০:০৯:২৭ ● ২৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ