তালতলীর ৯ খাল খননে ‘দায়সারা কাজের’ অভিযোগ, তদন্তের দাবি

হোম পেজ » লিড নিউজ » তালতলীর ৯ খাল খননে ‘দায়সারা কাজের’ অভিযোগ, তদন্তের দাবি
রবিবার ● ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


 

এভাবেই দায়সারা খাল খনন করে পানিতে তলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

বরগুনার তালতলী উপজেলার ৯টি খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, খাল খননের নামে দায়সারা কাজ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চলছে। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উপকারভোগী কৃষক ও এলাকাবাসী।

 

জানা গেছে, জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ প্রকল্পের আওতায় নলবুনিয়া সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১৭ হাজার ৫৫২ দশমিক ৫ মিটার খাল খননের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৩ টাকা। নলবুনিয়া, চিলু মাঝির, সুন্দরিয়া, সুন্দরিয়া ব্রাঞ্চ, তাতীপাড়া, চামোপাড়া, মৌরাবির, বথিপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া খাল- এই ৯টি খালে কাজ চলছে। তদারকির দায়িত্বে রয়েছে এলজিইডি।

 

অভিযোগ রয়েছে, সমিতির মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান বাচ্চু নিজ লোকজন দিয়ে ভেকু মেশিনে খাল খনন করছেন। স্থানীয়দের দাবি, খাল আংশিক খনন করে দ্রুত বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে, যাতে অনিয়ম ধরা না পড়ে। একই ব্যক্তিরা ঠিকাদার, সমিতির সভাপতি-সম্পাদক ও স্বাক্ষরকারী হিসেবে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

 

রবিবার সরেজমিনে তাতীপাড়া, চামোপাড়া, মৌরাবির, বথিপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া খাল ঘুরে দেখা যায়, একদিকে খনন কাজ চলছে, অন্যদিকে বাঁধ কেটে পানি ঢুকছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের কাউকে তদারকিতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

 

বথিপাড়া খালের পাড়ের বাসিন্দা হাবিব হাওলাদার, মোঃ মুছা, আব্দুল খালেক ও আব্দুল মান্নান বলেন, নামমাত্র খনন করে খালের দুই পাড়ের কিছু মাটি সরানো হচ্ছে। গভীরতা বাড়ানো হয়নি। এভাবে কাজ করলে বর্ষায় আবার খাল ভরাট হয়ে যাবে, কৃষকদের কোনো উপকার হবে না।

তারা দ্রুত তদন্তের দাবি জানান।

 

ভেকু মেশিনচালক ইউসুফ বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশেই কাজ করছি।

তিনি স্বীকার করেন, খননের পাশাপাশি কিছু স্থানে বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হয়েছে।

 

প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। তবে কাজ শেষ না হতেই বাঁধ কাটার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

 

চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান বাচ্চু দাবি করেন, সঠিকভাবেই খাল খনন করা হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী, বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক কাজ তদারকি করছেন।

কিছু অনিয়ম থাকলে তা সংশোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

তালতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় কৃষকেরা পানি চলাচলের জন্য কিছু স্থানে বাঁধ কেটেছেন।

 

বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, অনিয়মের বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্প পরিচালক এনামুল কবির জানান, একটি স্থানে সমস্যার কথা তিনি অবগত আছেন এবং সেখানে কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। দ্রুত কনসালটেন্ট পাঠিয়ে কাজ তদারকি করা হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:২৮:৪২ ● ২৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ