সর্বশেষ
টোয়াকের সংবাদ সম্মেলন উপকূলীয় উন্নয়নে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার দাবি মন্তব্য কলাম একই সংসদে দুই মন্ত্রিসভা: গণতন্ত্রে বিকল্প প্রস্তুতির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের উপস্থিতি দেড় বছর পর দশমিনায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলল পটুয়াখালী-৩ আসনে প্রথমবার বিএনপি জোটের জয় পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ বাউফলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যুবকের লাশ উদ্ধার পাড়েরহাটে বিএনপির দুই নেতাকে কুপিয়ে আহত, খুলনায় প্রেরণ আগৈলঝাড়ায় মাদক মামলায় যাবতজীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার রমজান শুরুর আগেই কুয়াকাটা-কলাপাড়ায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, দিশেহারা ক্রেতারা

মন্তব্য কলাম একই সংসদে দুই মন্ত্রিসভা: গণতন্ত্রে বিকল্প প্রস্তুতির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো

হোম পেজ » মুক্তমত » মন্তব্য কলাম একই সংসদে দুই মন্ত্রিসভা: গণতন্ত্রে বিকল্প প্রস্তুতির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
সোমবার ● ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


 

মো. বেল্লাল হাওলাদার

মো. বেল্লাল হাওলাদার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন সমান্তরালভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ধারণা। একই সংসদে কি সত্যিই দুই মন্ত্রিসভা থাকতে পারে- নাকি এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বীকৃত ও পরীক্ষিত একটি কাঠামো- এ প্রশ্ন এখন জনপরিসরে আলোচিত।

 

ছায়া মন্ত্রিসভা মূলত বিরোধী দলের একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা। ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দল একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ মনোনীত করে। তাঁদের কাজ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতি, বাজেট, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা; প্রয়োজনে বিকল্প নীতিমালা প্রস্তাব করা এবং সংসদে তথ্যভিত্তিক সমালোচনা উপস্থাপন করা। ফলে বিরোধী রাজনীতি কেবল প্রতিবাদনির্ভর না থেকে নীতিনির্ভর বিকল্প প্রস্তুতিতে রূপ পায় এবং জনসমক্ষে একই বিষয়ে একাধিক নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট হয়।

 

এই চর্চা সুসংগঠিতভাবে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে United Kingdom-এ। পাশাপাশি Canada, Australia এবং New Zealand-এও শ্যাডো কেবিনেট কার্যকর কাঠামো হিসেবে বিদ্যমান। এসব দেশে ছায়া মন্ত্রীরা সরকারের নীতির বিকল্প রূপরেখা তৈরি করেন, বাজেট ও সিদ্ধান্তের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করেন এবং সংসদীয় বিতর্ককে তথ্যসমৃদ্ধ করে তোলেন। এর ফলে বিরোধী দল ক্ষমতার বাইরে থেকেও সম্ভাব্য সরকার হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত রাখে।

 

কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা গণতন্ত্রে জবাবদিহি ও ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সহায়ক। সরকার জানে যে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষিত হচ্ছে; ফলে নীতি প্রণয়নে সতর্কতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে বিরোধী দলও ভবিষ্যৎ শাসনের জন্য নীতিগত ও সাংগঠনিক সক্ষমতা গড়ে তোলে, যা ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রূপান্তরকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করে।

 

তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। দলীয় মেরুকরণ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা প্রায়ই সংসদীয় কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে। এই প্রেক্ষাপটে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর করতে হলে প্রয়োজন সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি, নীতিনির্ভর বিতর্কের পরিবেশ এবং শক্তিশালী সংসদীয় চর্চা। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিপক্বতা ছাড়া এটি কেবল আনুষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

 

অতএব, একই সংসদে দুই মন্ত্রিসভার ধারণা ক্ষমতার সংঘাতের প্রতীক নয়; বরং গণতন্ত্রে বিকল্প নেতৃত্ব ও নীতিগত প্রস্তুতির একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পারস্পরিক আস্থা এবং সংসদীয় পরিপক্বতার ওপর। বর্তমান আলোচনা তাই সাময়িক কৌতূহলের বিষয় নয়; বরং গণতন্ত্রকে আরও জবাবদিহিমূলক ও নীতিনির্ভর করার সম্ভাবনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা।

 

মো. বেল্লাল হাওলাদার

লেখক ও সাংবাদিক

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৪:০০ ● ৮৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ