
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনার তালতলীতে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি হিরন হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। সাগরকন্যা অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে। ইতোমধ্যে হিরনকে গ্রেপ্তার করে তালতলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে কলাপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় পটুয়াখালীতে র্যাব-৮ এর একটি দল স্কোয়াড্রন লিডার মো. রাশেদুল আহসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে তালতলী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার সকালে তালতলী থানা পুলিশ তাকে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠিয়েছে।
হিরন পঁচাকোরালিয়া ইউনিয়নের বড়পাড়া গ্রামের মানিক হাওলাদারের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশাদুর রহমান বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হিরন হাওলাদারের রিমান্ড আবেদন করা হবে। অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী-পরিত্যক্ত এক নারীকে হিরনসহ চারজন তালতলী উপজেলার পঁচাকোরালিয়া ইউনিয়নের বড়পাড়া গ্রামে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে হিরনসহ চারজনের বিরুদ্ধে তালতলী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, তিনি তালতলীর সোনাকাটা ইউনিয়নের লাউপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী-পরিত্যক্ত হওয়ার পর পটুয়াখালীর মহিপুর এলাকায় ট্রলারের পাশে মাছ কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এই সুযোগে হিরন দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলিয়ে নিজেকে অবিবাহিত বলে জানান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আসরের নামাজের সময় হিরন তাকে মোটরসাইকেলে করে মহিপুর থেকে বড়পাড়া গ্রামে নিয়ে যান। মাগরিবের আজানের সময় তাকে একটি ফাঁকা ঘরে রাখা হয়। এশার নামাজের সময় হিরনসহ আরও তিনজন সেখানে এসে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। রাজি না হলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হিরনসহ চারজন রাতভর পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। ফজরের আজানের সময় অভিযুক্তরা বাইরে গেলে সুযোগ পেয়ে তিনি পালিয়ে পাশের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকেন এবং পরে ফজরের নামাজে আসা মুসল্লিদের কাছে গিয়ে সাহায্য চান।