সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নে বড়ই বাগান রক্ষার অজুহাতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে শত শত পাখি নিধনের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। সাগরকন্যায় খবর প্রকাশের পর নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। তারা দ্রুতই এ বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর আগে এ ঘটনায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ
।
জানা গেছে, সোহাগদল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত আলাউদ্দিন মিয়ার প্রায় এক একর আয়তনের বড়ই বাগানে দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল টানানো ছিল। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায় জালে আটকে থাকা অসংখ্য মৃত পাখির হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলাউদ্দিন মিয়া গত তিন থেকে চার বছর ধরে বড়ই চাষ করে আসছিলেন এবং পাখির আক্রমণ থেকে ফল রক্ষার অজুহাতে এ অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করছিলেন। ফলে বড়ই মৌসুমে খাবারের সন্ধানে আসা নানা প্রজাতির পাখি প্রতিদিনই জালে আটকে মারা যাচ্ছিল।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। পরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান, তবে এ সময় বাগানের মালিককে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার বিকেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২-এর ৩৮(২) ও ৪১ ধারায় আলাউদ্দিন মিয়াকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রায়হান মাহমুদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।