তালতলীতে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে ওয়াকফা সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

হোম পেজ » বরগুনা » তালতলীতে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে ওয়াকফা সম্পত্তি দখলের অভিযোগ
শুক্রবার ● ২৩ জানুয়ারী ২০২৬


 

তালতলীতে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ওয়াকফা সম্পত্তির জমি দখলের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

বরগুনার তালতলী উপজেলায় ওয়াকফা স্টেটের জমিতে রোপণকৃত ধানের চারা উপড়ে ফেলে জোরপূর্বক চাষাবাদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পঁচাকোরলিয়া ইউনিয়নের হুলাটানা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

জানা যায়, হুলাটানা গ্রামের বাসিন্দা লোকমান হোসেন হাওলাদার ১৯৯২ সালে তার মালিকানাধীন প্রায় ১৭ একর জমি ওয়াকফা দলিলভুক্ত করেন। ওই সময় মোফাজ্জল হোসেন হাওলাদারকে ওয়াকফা স্টেটের মোতায়ালি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে ওই জমি মোতায়ালির ভোগদখলে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পঁচাকোরলিয়া ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরফে কালু, সহসভাপতি আব্দুল সত্তারসহ হামেজ মৃধা, নাসির মৃধা, জসিম মৃধা, রফিজ প্যাদা, নাসির মাস্টার ও জুয়েলসহ ৩০-৪০ জন ব্যক্তি ওয়াকফা স্টেটের জমিতে প্রবেশ করে রোপণকৃত হাইব্রিড ধানের চারা উপড়ে ফেলে পুনরায় চাষাবাদ শুরু করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে মোতায়ালি মোজাম্মেল হোসেন হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করা হয়। এতে রেশমা বেগম নামের এক নারী আহত হন। প্রাণভয়ে ভুক্তভোগীরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

 

আহত রেশমা বেগমকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

ওয়াকফা স্টেটের মোতায়ালি মোজাম্মেল হোসেন হাওলাদার বলেন, আমি দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে এই ওয়াকফা জমি ভোগদখল করে আসছি। আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওহাব তালুকদার ও আব্দুল সত্তারের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী আমার জমির রোপণকৃত ধানের চারা উপড়ে ফেলে জোরপূর্বক চাষাবাদ করেছে। বাধা দিলে আমাকে ও আমার পরিবারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাড়া করা হয়। আমার স্বজন রেশমা বেগম এগিয়ে গেলে তাকে মারধর করা হয়।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরফে কালু বলেন, কবলা দলিলমূলে ওই জমির মালিক আমরা। আমাদের জমিতে অন্যরা ধানের চারা রোপণ করেছিল, তাই আমরা তা তুলে ফেলেছি।

 

এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৮:০৯ ● ১৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ