
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)
বাবা-মা কিংবা স্ত্রীকে অপমানিত হতে দেখলে তা সহ্য করার মতো নয়। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে তখন ডান-বাম দেখা হবে না- এমন মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। সোমবার রাতে পটুয়াখালী-৩ আসনের দশমিনা উপজেলার রণগোপালদি ইউনিয়নের আউলিয়াপুর স্কুল মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মিলাদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, গত সাত বছরে তিনি বহুবার হামলা ও অপমানের শিকার হয়েছেন, রক্তাক্ত হয়েছেন, তার পরিবারকেও হেয় করা হয়েছে। এরপরও গত দেড় বছরে তিনি কাউকে কটু কথা বলেননি, হুমকি দেননি বা লাঞ্ছিত করেননি। বরাবরই ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে সম্প্রতি আমখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার স্ত্রী সহকর্মীদের সঙ্গে গেলে সেখানে তাকে নিয়ে নানা অশালীন মন্তব্য করা হয়। পরিবারকে বারবার অপমান করা হলে তা মেনে নেওয়া যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে উদ্দেশ করে নুর বলেন, বড় ভাই হিসেবে তাকে সম্মান করতে চান। তবে তিনি যে পথে এগোচ্ছেন, তাতে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কবর রচনা করছেন। বিএনপি করতে চাইলে দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে কিংবা দলীয় শৃঙ্খলা না মেনে বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক কর্মসূচি করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, গলাচিপা-দশমিনা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে তিনি ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। গত ৪৯ বছর ধরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা এমপি হলেও এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না এবং ব্যালটে নৌকা প্রতীক নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিএনপি তাকে সমর্থন দিয়েছে এবং ধানের শীষের প্রার্থী দেয়নি। এ জন্য তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির এক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় নেতাকর্মীদের বিভ্রান্তি ঠেকাতে তারেক রহমান তাকে সমর্থন দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা না মানায় দশমিনা উপজেলা কমিটি ও গলাচিপা পৌর কমিটি বাতিল করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাজ করা ঠিক নয়। এতে জাতীয় রাজনীতিতে দলের জন্য নেতিবাচক বার্তা যায়।