
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ঝালকাঠি
একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে ঝালকাঠিতে এক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
‘সংসদ নির্বাচন দেশের চাবি আপনার হাতে’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মশালায় গণভোটের গুরুত্ব, ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন এবং গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এতে গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মমিন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এ বি এম রফিকুল ইসলাম এবং ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদার।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মত প্রকাশের সুযোগ পায়। তিনি বলেন, কমিশনের প্রস্তাবিত চারটি প্রস্তাবনা সম্পর্কে জনগণের কাছে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ভোটাররা যেন ভয়ভীতি ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, গণভোট সফল করতে নিরপেক্ষ তথ্য প্রচার ও ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, গণভোট শুধু একটি ভোট নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে এবং নির্বাচনী ফলাফল বা সংশ্লিষ্ট তথ্য শুধুমাত্র সরকারি ও যাচাইকৃত সূত্রের ভিত্তিতে প্রকাশ করতে হবে। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সাংবাদিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এর আগে তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে- ১৯৭৭, ১৯৮৫ এবং সর্বশেষ ১৯৯১ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগে আবারও গণভোট আলোচনায় এসেছে। কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ গণভোট নিশ্চিত করতে সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।