
সাগরকন্যা প্রতিবেদন, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে আটক পরীক্ষার্থী ইয়ামনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে আদালতে হাজির করে এ রিমান্ড আবেদন করেন।
অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত জানিয়েছেন, আসামির উপস্থিতিতে যে কোনো দিন রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জিআরও মাহবুব হোসেন।
এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বরগুনা শহরের পৃথক দুটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ইয়ামনির কাছ থেকে একটি কমিউনিকেটিভ ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মাস্টার কার্ড), একটি পিন, সিম ও কানে ব্যবহৃত ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। অপর পরীক্ষার্থী রাসেল মিয়ার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) থেকে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ডিভাইস ব্যবহারকালে পরীক্ষার্থীদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, আটক রাসেল মিয়াকে দণ্ডবিধির আওতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর আরিফ চৌধুরী ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। অপরদিকে ইয়ামনির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ডিভাইস সরবরাহকারী চক্র শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে।
একাধিক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে জানান, এই ডিভাইস ব্যবহার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে এবং এর সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তারা দাবি করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই চক্রের মূল হোতারা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সালেহ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।