
সাগরকন্যা প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিজ-এর প্রেসিডেন্ট এম জি আর নাসির মজুমদার বলেছেন, মাত্র ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে শুধু ঢাকা শহরেই ১ লাখের বেশি ভবন ধসে পড়তে পারে। পুরান ঢাকার পরিস্থিতি হবে সবচেয়ে ভয়াবহ, সেক্ষেত্রে উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রেখে এলাকাগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন, এখনো মানুষ বিল্ডিং কোড না মেনে যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ করছে এবং পুরনো ভবনের ওপরে প্রতি ২/৪ বছর পর ছাদ যুক্ত করছে। অথচ তারা কোনো ঝুঁকির কথাই ভাবছে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভূমিকম্পের সময় ৫ম, ৬ষ্ঠ বা ৭ম তলায় থাকা মানুষ সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসার চেষ্টা করে, যা সবচেয়ে বিপজ্জনক। নিচের তলা ভেঙে উপরের তলা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সিঁড়িতে ভিড়, ধাক্কাধাক্কি ও অন্ধকারে ৯০ শতাংশ মানুষ সিঁড়িতেই নিহত বা আহত হয়।
এই পরিস্থিতিতে করণীয় হিসেবে তিনি লেখেন, Drop–Cover–Hold On পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বেডরুমে খাটের নিচে, ড্রয়িং বা ডাইনিংয়ে মজবুত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। কোনো আশ্রয় না পেলে দেয়ালের কোণে বসে মাথা ঢেকে রাখতে হবে। বারান্দায় যাওয়া যাবে না, কারণ রেলিং ভেঙে পড়তে পারে। বাথরুম নিরাপদ হতে পারে; সেখানে বালতি উল্টো করে মাথার ওপর ধরলেও প্রাণ বাঁচতে পারে।
তিনি পরামর্শ দেন, মাথা রক্ষায় হেলমেট, বালতি, ঝুড়ি বা ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। ১ম বা ২য় তলায় থাকলে কম্পন শুরুতেই দরজা খুলে রেখে ১৫-২০ সেকেন্ডের মধ্যে সিঁড়ি দিয়ে বের হয়ে খোলা জায়গায় যেতে হবে, তবে ভবনের গা ঘেঁষে দাঁড়ানো যাবে না; অন্তত ১০০ ফুট দূরে থাকতে হবে।
ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়লে চিৎকার না করে হুইসেল বাজানো বা পাইপে ৩ বার টোকা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মোবাইলের টর্চ অন রাখতে হবে কিন্তু কথা বলা যাবে না, ব্যাটারি বাঁচাতে হবে। ধুলো ঢোকা ঠেকাতে মুখে কাপড় চেপে ধরতে হবে, অন্যথায় গলা শুকিয়ে যাবার ভয় আছে।
তিনি জানান, ঘরে বিছানার পাশে জুতা, হেলমেট ও হুইসেল রাখতে হবে। ভারী আলমারি, টিভি, ফ্রিজ এমনভাবে রাখতে হবে যেন পড়ে গিয়ে জীবনহানি না ঘটে। গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে চেইন দিয়ে বাঁধা থাকতে হবে এবং দরজা অটো-লক যেন না হয়।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহর, যেখানে ৫ থেকে ৭ তলার অ্যাপার্টমেন্টই মূল আবাসন- তাই সচেতনতার বিকল্প নেই।
সবশেষে তিনি লেখেন, জীবনে প্রস্তুতি না থাকলে বেঁচে থাকা ভাগ্যের উপর। জীবন শুধু শ্বাস নেওয়া নয়, জীবন মানে সচেতন থাকা এবং প্রতিটি মুহূর্তকে সম্মান করা।