
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ইন্দুরকানী (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে হতদরিদ্র দুই ভাই গোপাল ও উত্তম ঝুপড়ি কুঁড়ে ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপজেলা সদরের ইন্দুরকানী বাজার সংলগ্ন চেয়ারম্যান বাড়ীর রাস্তায় তারা মাথা গোজার ঠাঁই পাচ্ছে না। অর্থের অভাবে একটি ঘর তৈরি করতে পারছে না।
দুই ভাই ইন্দুরকানী বাজারে জুতা মেরামতের কাজ করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করে। একদিন কাজ না হলে মাঝেমধ্যে না খেয়ে থাকতে হয়। আত্মীয়-স্বজনের সাহায্য নেই। বর্ষার মৌসুম ও অতিরিক্ত জোয়ারে ঝুপড়ি ঘরটি প্রায়ই তলিয়ে যায়।
গত কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়- সিডর, আইলা ও রেমালে- তাদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সাইক্লোন শেল্টার ও স্কুল ঘরে থাকতে হয়েছে। ২০২৪ সালে ঝুপড়ির উপর একটি বড় গাছ পড়ে ঘরটি বিধ্বস্ত হয়। এরপর কিছু মানুষের সহযোগীতায় টিনের চাপড়া দিয়ে বসবাস করে আসছে। সন্তানদের লেখাপড়া ও ভালো পোশাক দেওয়ার সামর্থ্য নেই।
উত্তম ঋর্ষি বলেন, আমরা অসহায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। আয় তেমন নেই। খেয়ে না খেয়ে জীবন চলমান। সরকারি ঘরের জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু পাইনি। উল্টো সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলা করেছেন। তিনি সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে আবেদন করেছেন, পরিবারসহ মাথা গোজার ঠাঁই দিতে সাহায্য করার জন্য।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল বাসার মৃধা বলেন, গোপাল ও উত্তম অত্যন্ত গরীব। তাদের জন্য একটি ঘর খুব জরুরি। তিনি চেষ্টা করেছেন, কিন্তু নানা সমস্যার কারণে সম্ভব হয়নি।
৪নং ইন্দুরকানী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদ করিম তালুকদার জানান, বর্তমানে ঘরের সরকারি বরাদ্দ নেই। তবে ভবিষ্যতে বরাদ্দ এলে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ঘর দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, যতটুকু সম্ভব করেছি, ভবিষ্যতেও সহযোগিতা চালিয়ে যাবো।