পরিবেশ সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে মোংলাকে ঘিরে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

হোম » জাতীয় » পরিবেশ সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে মোংলাকে ঘিরে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬


 

পরিবেশ সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে মোংলাকে ঘিরে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট

 

অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা, সময় ও ব্যয় হ্রাস এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমেই প্রকল্পের প্রকৃত সার্থকতা নিশ্চিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মোংলা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে চীনা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে।

 

বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের মোংলায় চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সঙ্গে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

অনুষ্ঠানে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ ও সিআরসিসির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের সাফল্য কেবল নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সময় ও ব্যয় কমানো, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরই প্রকল্পের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করে। অর্জিত প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা শুধু নির্দিষ্ট অঞ্চল নয়, সমগ্র দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ বন্দরগুলোর আধুনিকায়নে পরিবেশবান্ধব সেবার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, কার্যকর ড্রেজিং, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তেল নিঃসরণ প্রতিরোধ এবং জাহাজের বর্জ্য নিরাপদে অপসারণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা মান বজায় রাখার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে সবাইকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, বন্দরসেবার আধুনিকায়নে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি এবং জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জন জরুরি।

 

মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালিত চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সফররত প্রতিনিধিদলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি।

 

দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় চীনা বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসায় সরকার আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন ফারুক, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং নৌপরিবহন সচিব মো. আতাউর রহমান খান প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:০২:৫৬ ● ২০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ