সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মনপুরা (ভোলা)
ভোলার মনপুরায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. মাকছুদকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নুরনাহার মাকছুদসহ ছয়জনকে আসামি করে মনপুরা থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি মাকছুদকে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে আটক করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
আটক মাকছুদ হাজিরহাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। মামলার অন্য আসামিরা হলেন রাসেল, তৈয়ব, সোহেল, ফজলু ও লাভলী বেগম। তাঁদের সবার বাড়ি হাজিরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাওনা টাকা চাইতে হাজিরহাট বাজারে যান নুরনাহার। এ সময় থানার সামনে মাকছুদের নেতৃত্বে আসামিরা তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁর শাড়ি টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আটক মাকছুদের ভাতিজা সুমন ও মামুনের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যুবদলের একটি পক্ষ ওই নারীকে দিয়ে মামলা করিয়েছে। তাঁদের দাবি, কিছুদিন আগে ওই নারীর বিরুদ্ধে পতিতাবৃত্তির অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছিলেন।
ভুক্তভোগী নুরনাহার বলেন, পাওনা টাকা চাইতে গেলে যুবদল নেতা মাকছুদের নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন আমাকে মারধর ও হেনস্তা করেন। এর আগে মাকছুদ আমাকে মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নকে জানিয়েছি। পরে মাকছুদসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মনপুরা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা বলেন, মাকছুদ বর্তমানে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তবে তিনি যে কাজ করেছেন, তা নিন্দনীয়।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, নারীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি মাকছুদকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।