বাউফলে নদী থেকে উদ্ধার হাত-পা বাঁধা লাশের পরিচয় মিলেছে, হত্যার অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » বাউফলে নদী থেকে উদ্ধার হাত-পা বাঁধা লাশের পরিচয় মিলেছে, হত্যার অভিযোগ
রবিবার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬


নিহত ব্যক্তি মো. আলম গাজী। ছবি- সংগৃহীত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর বাউফলে আলগী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া হাত বাঁধা ও শরীরে ইটভর্তি বস্তা বাঁধা অর্ধগলিত লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তি মো. আলম গাজী (৫৫)। তিনি বাউফল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় বাউলশিল্পী আলম গাজী কবিরাজিও করতেন। তাঁকে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার লাশের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের স্বজনেরা তাঁর পরনের লুঙ্গি ও গেঞ্জি দেখে পরিচয় শনাক্ত করেন। লাশ উদ্ধারের সময় মুখমণ্ডল বিকৃত ও অর্ধগলিত থাকায় চেহারা দেখে তাঁকে চেনা সম্ভব হয়নি।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বাউফল পৌরসভার বাংলাবাজার জামে মসজিদ-সংলগ্ন আলগী নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন ছিল। দুই হাত বাঁধা ছিল। পেট কাটা এবং শরীরের সঙ্গে বস্তায় ভরা ১২টি ইট বাঁধা ছিল।

 

নিহতের বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁর বাবা তিনটি বিয়ে করেছিলেন। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি তৃতীয় স্ত্রী মোসা. ফারজানা বেগমের সঙ্গে বাউফল পৌরসভার দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার খালপাড়ে একটি বাসায় থাকতেন। প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না।

 

সাইফুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধারের পর ফারজানা বেগম তাঁদের জানান, গত বুধবার সকালে নাশতা খেয়ে রোগী দেখার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন আলম গাজী। এরপর আর ফেরেননি। পরে লাশের পরনের লুঙ্গি ও গেঞ্জি দেখে তাঁরা বাবার পরিচয় শনাক্ত করেন।

 

নিহতের বড় মেয়ে মোসা. রিপা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর বাবাকে তৃতীয় স্ত্রী ফারজানা বেগম হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছেন। ফারজানাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারজানা বেগম। তাঁর ভাষ্য, বুধবার সকালে খাবার খেয়ে রোগী দেখার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন আলম গাজী। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি।

 

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৩৯:৫০ ● ৩০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ