
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, তালতলী (বরগুনা)
বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি ইকোপার্কে একসময় থাকা ১৪টি হরিণের মধ্যে এখন টিকে আছে মাত্র তিনটি। ক্রমে হরিণের সংখ্যা কমলেও সেগুলো কোথায় গেল, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বন বিভাগ। অন্যদিকে, হরিণের নিরাপত্তায় নির্মিত বেষ্টনীও ভেঙে বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে ‘দ্বিতীয় সুন্দরবন’ নামে পরিচিত এই পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নে ‘ইকো-ট্যুরিজম সুযোগ বৃদ্ধি’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয় টেংরাগিরি ইকোপার্ক। প্রতিষ্ঠার সময় এখানে ১৪টি হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী ছিল। হরিণের অবাধ বিচরণ ও বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকেরা আসতেন।
প্রায় দেড় যুগ আগে কুমির, শূকর, চিতাবাঘ ও হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিয়ে যাত্রা শুরু করা পার্কটি সময়ের সঙ্গে তার আকর্ষণ হারাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিণের খাদ্যসংকট, বন বিভাগের তদারকির অভাব এবং চোরাশিকারিদের তৎপরতা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক হরিণ হারিয়ে গেছে। তবে হরিণগুলোর নিখোঁজ হওয়ার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক বেসরকারি একটি ব্যাংকে কর্মরত শাহরিয়ার জামান (৪২) হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এর আগেও টেংরাগিরি ইকোপার্কে এসেছি। তখন হরিণের অবাধ বিচরণ দেখে মন ভরে গিয়েছিল। কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। প্রায় দিনভর অপেক্ষাও করে একটি হরিণের দেখা মিলল না। পার্কের ভেতরে বেষ্টনীগুলো ভাঙাচোরা ও বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বন্যপ্রাণী ও অভয়ারণ্যের প্রতি কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলা ও উদাসীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
স্থানীয় যুবক রিয়াজুল ইসলাম (৩৪) ও জহিরুল ইসলাম অমি (৩৭) বলেন, ‘একসময় টেংরাগিরি ইকোপার্ক পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকত। বনের হরিণই ছিল তাঁদের মূল আকর্ষণ। এখন হরিণের দেখা না পেয়ে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। হরিণের সুরক্ষায় নির্মিত বেষ্টনীও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। বন বিভাগের দায়িত্বহীনতার কারণেই পার্কটি প্রায় হরিণশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে পর্যটকেরা এই ইকোপার্ক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যা পর্যটনশিল্পের জন্য হুমকি।’
এ বিষয়ে তালতলী রেঞ্জের ছকিনা বিট কর্মকর্তা রাহিমুল ইসলাম জুমেল সাগরকন্যা প্রতিবেদককে বলেন, ‘বেষ্টনী ভেঙে পড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত পার্ক সংস্কার করে বন্যপ্রাণীগুলো রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে পার্কে হরিণের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বন বিভাগের তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জিয়াউল ইসলাম সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
কুয়াকাটার বন ও পরিবেশকর্মী কেএম বাচ্চু মনে করেন, সরকার কুয়াকাটাকে পর্যটন জোন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলে টেংরাগিরি ইকোপার্ক ও দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পিকনিক স্পট গৈয়ামতলা গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পার্কের অবকাঠামো সংস্কার, হরিণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর তদারকি জরুরি।